প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নওদাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় গবাদিপশু বোঝাই একটি আইশার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা গভীর পুকুরে উল্টে পড়ে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে ৯টি বড় পশুর করুণ সলিলসমাধি ঘটেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং খবর পেয়ে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসা ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে ১৩টি গরুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গবাদিপশুর ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানটি উদ্ধারের ব্যবস্থা নিয়েছে।
আরও পড়ুন: অভয়নগরে ইয়াবা চুরির অপবাদে যুবককে অপহরণ ও নির্যাতন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার অন্তর্গত বড় দুধপাতিলা গ্রামের আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জনের একটি ব্যবসায়ী দল গবাদিপশু ক্রয়ের উদ্দেশ্যে উত্তরাঞ্চলের জেলা জয়পুরহাটে যান। গত ৩১ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার রাতে তারা জয়পুরহাটের স্থানীয় হাট থেকে বিপুল পরিমাণ গরু ক্রয় করেন। কেনাকাটা সম্পন্ন করার পর ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার গবাদিপশুগুলো একটি ট্রাকে সুন্দরভাবে লোড করে নিজ গ্রাম দামুড়হুদার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সারারাত গাড়ি চালিয়ে আসার পর কুষ্টিয়া জেলার সীমানা পার হয়ে পাটিকাবাড়ীর নওদাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। অতি ক্লান্তির কারণে কিংবা যান্ত্রিক ক্রুটি অথবা চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে একপর্যায়ে গাড়িটি রাস্তার পাশের গভীর পুকুরে আছড়ে পড়ে।
যানবাহনটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে আর্তচিৎকার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। গাড়িতে অবস্থানরত ব্যবসায়ী ও চালক-সহকারীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ভেতরে আটকে পড়া পশুগুলো পানির নিচে আটকা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হতে শুরু করে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে নওদাপাড়া গ্রামের আশপাশের বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে হাত বাড়ান। তারা নিজস্ব উদ্যোগে পানি থেকে গবাদিপশুগুলোকে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত ১৩টি গরুকে অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় টেনে তোলা সম্ভব হলেও পানির নিচে অতিরিক্ত সময় দম বন্ধ হয়ে ৯টি গরুর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে ছিল চরম হতাশা ও কান্নার ছাপ। কষ্টার্জিত পুঞ্জীভূত পুঁজি দিয়ে কেনা গবাদিপশু এভাবে মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে মারা যাওয়ায় তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। চুয়াডাঙ্গার বড় দুধপাতিলা গ্রাম থেকে আসা এসব গবাদিপশু ব্যবসায়ীদের এমন বড় আর্থিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা বেশ কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। গবাদিপশু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণ বেঁচে যাওয়া ১৩টি গরুকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভালুকায় ফেসবুকে বিদায়ী স্ট্যাটাস দিয়ে নিখোঁজের পর তরুণের মরদেহ উদ্ধার
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম নজরদারি করে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত সড়কটিতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, জলমগ্ন ট্রাকটিকে উদ্ধার করতে রেকার আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক তদন্তে চালকের অমনোযোগিতা নাকি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা বা পুকুরের সান্নিধ্য এমন দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী কি না, সে বিষয়েও স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।