শাহজাদপুরে ১৩ বছরের জমি বিরোধের অবসান: দুই পরিবারের মুখে হাসির ঝিলিক

শাহজাদপুরে ১৩ বছরের জমি বিরোধের অবসান: দুই পরিবারের মুখে হাসির ঝিলিক
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর পৌরসভায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা একটি জটিল জমি সংক্রান্ত বিবাদ এবং সামাজিক টানাপোড়েনের অবশেষে চরম ইতিবাচক সমাপ্তি ঘটেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা চরম উদ্বেগ, পারিবারিক অসন্তোষ এবং সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে আজ উভয় পক্ষের মধ্যে স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বিজ্ঞ বিচারক, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্ট জননেতাদের আন্তরিক মধ্যস্থতায় এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সুন্দর সমাধান সম্ভব হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শাহজাদপুর পৌর এলাকার অন্তর্গত পুকুর পাড় মৌজা এবং দারিয়াপুর মৌজার মিলনস্থলে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে ভূট্টা ভাই এবং শাহাবুদ্দিন ভাইয়ের মধ্যে তীব্র সীমানা বিরোধ চলে আসছিল। জমিটির মালিকানা এবং সীমানা নির্ধারণের সঠিক পরিমাপ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল। বহুবার স্থানীয়ভাবে আমিন বা ভূমি পরিমাপক এনে জমি মাপা হলেও কোনো পক্ষই সর্বসম্মতভাবে সেই পরিমাপকে স্থায়ী মেনে নিতে পারেনি। এর ফলে একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা শুধু দুই পরিবারকেই নয়, বরং পুরো এলাকাবাসীকেও দীর্ঘদিন ধরে গভীর চিন্তায় ফেলে রেখেছিল।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়কে গরুর ট্রাক পুকুরে, ৯টি গরুর মৃত্যু

বিগত ১৩ বছরের এই অনিশ্চয়তা কাটানোর লক্ষ্যে আজ স্থানীয় সর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিজ্ঞ সমাজসেবক এবং প্রশাসনিকভাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ একজোট হয়ে বিরোধপূর্ণ স্থানে সরাসরি উপস্থিত হন। তারা উভয় পক্ষকে সাথে নিয়ে একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিমাপ ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন। ভূমি পরিমাপক ও স্থানীয় প্রবীণদের উপস্থিতিতে নকশা ও দলিলপত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পর প্রতিটি পক্ষের সঠিক পাওনা ও সীমানা চিহ্নিত করা হয়। আইন এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে দুই পক্ষকেই তাদের নিজ নিজ হকের অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হলে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা ক্ষোভের অবসান ঘটে এবং উপস্থিত সকলে চরম সন্তোষ প্রকাশ করেন।

নির্ধারিত পরিমাপের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই অকুস্থলে এক উৎসবমুখর ও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের প্রতি যে ক্ষোভ ও অম্লতা জমেছিল, তা ভুলে গিয়ে উভয় পক্ষই হাসিমুখে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং এই মধ্যস্থতার সিদ্ধান্তকে সানন্দে গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর এমন একটি জটিল বিবাদের চূড়ান্ত নিস্পত্তি দেখে দুই পরিবারের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।

আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে হাওরে নৌকাডুবি: ১ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২

উক্ত শালিস বৈঠকে উপস্থিত প্রবীণ মাতব্বর এবং দায়িত্বশীল সামাজিক নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, সমাজে প্রতিটি নাগরিকের শান্তিতে বসবাস করার এবং তাদের ন্যায়সংগত অধিকার বুঝে পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সামাজিক কোন্দল ও সংঘাত কখনো কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। তারা বলেন, আমাদের লক্ষ্যই ছিল সমাজ থেকে অন্যায়, বৈষম্য ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান ঘটিয়ে দুই পরিবারের মুখে পুনরায় হাসি ফোটাতে পেরে আমরা গভীরভাবে আনন্দিত ও আত্মতৃপ্ত।

এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও মানবিক উদ্যোগকে শাহজাদপুরের সাধারণ এলাকাবাসী আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, বিচারক ও মাতব্বরদের এমন নিরপেক্ষ ও সুচিন্তিত পদক্ষেপে সমাজে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এই ধরনের শান্তিপূর্ণ সমাধান শাহজাদপুরের ভবিষ্যৎ সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি রক্ষায় একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন