প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ইয়াবা চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক কারবারি চক্রের এই অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উপজেলার চলিশীয়া ইউনিয়নের চলিশীয়া চারবটতলা এলাকার বাসিন্দা মাহাবুল বিশ্বাসের ৩০ বছর বয়সী ছেলে আবু হুরায়রা। প্রকাশ্যে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে চরম আতঙ্ক, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীর পুরো পরিবার। ঘটনার সুরাহা এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন সরাসরি যশোর জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: মনোহরদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
ঘটনার বিবরণে ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্র থেকে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে দেয়াড়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নয়ন এবং চলিশীয়া চারাবটতলা এলাকার মাহাবুর শেখের পালিত ছেলে ইয়াসিন। স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইয়াসিন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবলীলায় মাদক বিক্রির সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছে এবং তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন আবু হুরায়রাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইয়াবা চুরির মিথ্যা ও মনগড়া অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত চক্রটি পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় ভৈরব নদীর এক নির্জন পাড়ে। নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপরাধীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারপিট শুরু করে। লাঠি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে শারীরিকভাবে মারাত্মক আঘাত করা হয়।
শারীরিক নির্যাতনের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর কাছে থাকা দুটি মূল্যবান মোবাইল ফোন সেট এবং নগদ গচ্ছিত টাকা বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে নেয়। কেবল সেখানেই এই নির্মমতার সমাপ্তি ঘটেনি; আবু হুরায়রাকে জিম্মি করে রাখার পর তার পরিবারের সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে কল দিয়ে সরাসরি খুনের হুমকি প্রদর্শন করা হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও নগদ অর্থ আদায় করে নেয় এই চক্রটি। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে ভুক্তভোগী ও তার স্বজনেরা মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়েন। অপরাধীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পাঠানোর পর কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় আবু হুরায়রা উদ্ধার হন।
আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ভুক্তভোগী পরিবার অনতিবিলম্বে অভয়নগর থানায় গিয়ে আসামিদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর বেশ কয়েক দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ কিংবা তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করেনি। পুলিশ প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে অভিযুক্তরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং মামলা না করার জন্য ও অভিযোগ তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে অনবরত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। আইনের আশ্রয় নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরগঞ্জের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুল জলিল আর নেই
এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, চলিশীয়া চারাবটতলা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারিদের অপ তৎপরতা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ নিরীহ মানুষকে টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং চাঁদা আদায় করা এদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে দ্রুত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে। অসহায় ভুক্তভোগী পরিবারটি যশোর জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় এবং তাদের পরিবারের স্বাভাবিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।