প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
গাজীপুরের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ শরীফ উদ্দিনের প্রদান করা একটি সাহসী ও ব্যতিক্রমী বক্তব্য স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের ভূমিকা নিয়ে নতুন এক পর্যালোচনার সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: পাবনায় গৃহবধূকে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ডিবি পুলিশের হাতে ৩ যুবক গ্রেপ্তার
একটি জনসভায় উপস্থিত হয়ে গাজীপুরের পুলিশ প্রধান স্থানীয়দের উদ্দেশে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ তিনি জনগণের কোনো অভিযোগ শুনতে আসেননি, বরং পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে হাজির হয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রধান বিষয়বস্তু ছিল অপরাধীদের পক্ষে প্রভাবশালীদের অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির সংস্কৃতি। তিনি খেদ প্রকাশ করে বলেন যে, নিষিদ্ধ বা অপকর্মের সাথে যুক্ত কোনো সন্ত্রাসী ও অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যখনই অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে, ঠিক তার পর পরই কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী লোক থানায় হাজির হন তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য।
পুলিশ সুপারের এমন সাহসী বক্তব্য কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে না, বরং সমাজে অপরাধী পোষার যে অশুভ চর্চা গড়ে উঠেছে তার ওপরও বড় আঘাত হানে। সচেতন মহল মনে করছেন, যদি বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রমাণিত ও অভিযুক্ত অপরাধীদের মুক্তির জন্য জোর লবিং বা দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রাখেন, তবে প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সমাজে যারা এ ধরনের অন্যায় তদবিরের সঙ্গে যুক্ত, তাদের নিজস্ব সংগঠন বা দলীয় স্তর থেকে যদি এখনই লাগাম টেনে ধরা না হয়, তবে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেফতার
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক নেতৃত্বের একাংশ বলছেন, যদি অপরাধীদের রক্ষা করার এমন অপচেষ্টা বন্ধ করা না যায়, তবে নবগঠিত জুলাই বিপ্লবের অদম্য সেনানী ও জুলাই যোদ্ধারা এই অপশক্তির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে দ্বিধা করবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণ সমাজ ও আপামর জনগণ এ ধরনের সুবিধাভোগী ও অপরাধী সুরক্ষাকারীদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবে। অন্যায়ের আশ্রয়দাতারা যদি সময় থাকতে নিজেদের না শুধরায়, তবে ইতিহাসসাক্ষী তারা পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির মতোই চরম নিকৃষ্ট আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ পুরোপুরি নির্মূলের ক্ষেত্রে কেবল পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বের ওপর ভরসা রাখলেই চলবে না। গাজীপুরের পুলিশ সুপারের এই স্পষ্ট বক্তব্য আমাদের আবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সমাজকে মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত করতে হলে সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা, নৈতিক অবস্থান এবং পুলিশকে নিঃস্বার্থ ও নিরপেক্ষভাবে সহায়তা করা সমানভাবে জরুরি। অপরাধীর কোনো দল নেই—এই নীতি মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।