প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের তৎপরতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কেবল অভ্যন্তরীণ সরকারি উদ্যোগই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা বিভিন্ন প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম, যা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে সক্ষম। এই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার এক দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই হেলথকেয়ারের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিনিধি দলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের চিকিৎসা অঙ্গনে ব্যাপক আশাবাদের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও প্যাথলজি ল্যাব উদ্বোধন
ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির সুদূরপ্রসারী প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্বখ্যাত এবং স্বনামধন্য বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘জিই হেলথকেয়ার’ (GE Healthcare)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে উপস্থিত হন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের চিকিৎসা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার পাশাপাশি কীভাবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশের হাসপাতালগুলোতে আরও সহজলভ্য করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকগণ বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য নীতির বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই হেলথকেয়ারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কৃতি ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ সশরীরে উপস্থিত থেকে বৈঠকে তাদের সুচিন্তিত মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন, যা আলোচনার পরিধিকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করেছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উইপ্রো জিই হেলথকেয়ারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা বা সিওও (COO) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ভি এস রাঘবেন্দ্র রাও (VS Raghavendra Rao), যিনি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত দিকগুলো তুলে ধরেন। এছাড়া বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জিই হেলথকেয়ার বাংলাদেশের সম্মানিত কান্ট্রি হেড মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান (Muhammad Asaduzzaman), যিনি স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম প্রসারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য ডিরেক্টর অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত মো. আবদুল কাদের (Md Abdul Kader) উপস্থিত থেকে দেশের স্বাস্থ্য খাতে জিই হেলথকেয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সহযোগিতার রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসমূহের চিকিৎসা কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, যাতে সাধারণ রোগীরা দেশের ভেতর থেকেই বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা লাভ করতে পারেন। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে উন্নতমানের ইমেজিং টেকনোলজি, রেডিওলজি এবং জীবনরক্ষাকারী মেডিকেল যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের অভিনব মডেলকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি কোণায় ডায়াগনস্টিক সেবার পরিধি বহুগুণে বৃদ্ধি করার অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই মডেলের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ অনেক কম খরচে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উন্নত ডায়াগনস্টিক সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে একটি বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও বৈঠকে দেশের বিদ্যমান মেডিকেল ইকুইপমেন্ট বা চিকিৎসাসামগ্রীগুলোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয়ভাবে দক্ষ মানবসম্পদ ও টেকনিশিয়ান তৈরির ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অনেক সময় মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় বা অকেজো হয়ে পড়ে, যার ফলে হাসপাতালগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়; এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য জিই হেলথকেয়ারের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় তরুণ প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে দেশের ভেতর থেকেই যেকোনো জটিল মেডিকেল টেকনোলজি ও যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয় প্রতিনিধিদের সকল প্রস্তাব অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং দেশের চিকিৎসাসেবাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
পরিশেষে বলা যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে বিশ্বখ্যাত জিই হেলথকেয়ারের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভাটি বাংলাদেশের চিকিৎসা প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি অত্যন্ত মাইলফলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক সেবার সম্প্রসারণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আমরা আশা করি, এই বৈঠকের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও জনবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে ওঠুক—এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।
সূত্র: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রেস উইং ও জিই হেলথকেয়ার বাংলাদেশ জনসংযোগ দপ্তর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।