গোপালপুরে ৫ দিন অনশনের পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পলাতক

গোপালপুরে ৫ দিন অনশনের পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পলাতক
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বৈবাহিক কলহ ও অনশনের জেরে এক নববধূর রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় মোনিয়া রহমান মুন্নি (১৯) নামে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত নিথর দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার স্বামীর বসতঘর থেকে এই ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরপর পাঁচ দিন অনশনে থাকার পর তরুণী গৃহবধূর এমন পরিণতিতে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: সিআইডি প্রধান ও ইতালি পুলিশের প্রতিনিধির বৈঠক: মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুন্নি ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। মাত্র তিন মাস পূর্বে একই গ্রামের লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য চলে আসছিল। একপর্যায়ে অধিকার আদায়ের দাবিতে নিহত মুন্নি টানা পাঁচ দিন অনশন করেন। তবে অনশনের পর হঠাৎ করেই স্বামীর নিজ ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মুন্নির পরিবারের সদস্যরা এটিকে সাধারণ কোনো আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ। তাঁদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে মুন্নিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মরদেহ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জিহাদ ভূঁইয়া এবং তাঁর মা আত্মগোপনে চলে গেছেন। ঘরবাড়ি ফেলে তাঁরা পালিয়ে যাওয়ায় পরিবারের করা হত্যার অভিযোগের সত্যতা আরও জোরালো হচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরগঞ্জের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুল জলিল আর নেই

খবর পেয়ে হেমনগর ফাঁড়ি ও গোপালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর তা ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এদিকে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়ে একটি অপমৃত্যু বা নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে আটকে পুলিশী অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: গোপালপুর থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন