প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানা এলাকায় মহাসড়কের বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় এক অসহায় অটোরিকশা চালক করুণভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রামারচর নামক এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ আফতাব আলী (৫০)। তিনি সলঙ্গা থানার দিয়ারপাড়া এলাকার গোঁজা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। প্রতিদিনের মতো পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার তাগিদে সকালে নিজের অটোরিকশা নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাঁকে।
আরও পড়ুন: গোপালপুরে ৫ দিন অনশনের পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পলাতক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট সকালে জীবিকার সন্ধানে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নামেন আফতাব আলী। বেলা আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি রামারচর মোড় এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী দ্রুতগতির ‘ন্যাশনাল ট্রাভেলস’-এর একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন তাঁর অটোরিকশাটিকে প্রচণ্ড জোরে সজোরে সোপর্দ করে। বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই আফতাব আলীর করুণ মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর পরই ঘাতক বাসটি দ্রুত চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনার পর সলঙ্গার মহাসড়ক কেন্দ্রিক মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চলগুলো নিয়ে পুনরায় তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সলঙ্গার চড়িয়া ১ নং ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে সাতটিকরী তালতলা, নাইমুড়ী এবং দবিরগঞ্জ কলাবাগান পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কের অংশটিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মৃত্যুফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান ও স্থানীয়দের অভিজ্ঞতার আলোকে জানা যায়, এই নির্দিষ্ট মহাসড়কটুকুতে প্রতি বছর গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন নিরীহ পথচারী, চালক ও হেলপার বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে প্রাণ হারান। প্রতি নিয়তই এই স্থানে রক্ত ঝরছে এবং অসংখ্য পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: পুরান ঢাকায় সংঘাতের জেরে উত্তেজনা: ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা
উক্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদে রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করার স্বার্থে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। সলঙ্গাবাসীর পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে অবিলম্বে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, স্পষ্ট জেব্রাক্রসিং অংকন এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের অংশ হিসেবে পদচারী উড়াল সেতু বা ফ্লাইওভার ব্রিজ নির্মাণের আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ঐতিহাসিক সলঙ্গার সর্বস্তরের সচেতন জনগণ।
সূত্র: স্থানীয় বাসিন্দা ও সলঙ্গা থানা পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।