প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটক ও সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অরাজকতা প্রতিহত করতে পুরো হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরেজমিনে দেখা যায়, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখে দিতে পুলিশের একাধিক দল এলাকাটিতে সতর্ক পাহারা বসিয়েছে। এই সময় পার্শ্ববর্তী কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সড়কগুলোতে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীকে জড়ো হয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তবে সংঘাতের খবর পাওয়া গেলেও ওই এলাকায় ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মীকে সক্রিয় দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মী আহত হন। আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসার তাগিদে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, সেখানেও প্রতিপক্ষ দলের অনুসারীরা প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা ও মারধর চালায়। হাসপাতাল চত্বরে এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হলে রোগী ও চিকিৎসকদের মাঝে তীব্র আতঙ্কের সঞ্চার হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: মহাদেবপুরে চুরি যাওয়া মালামালসহ গ্রেপ্তার ৩, পুলিশি তৎপরতায় স্বস্তি
ঘটনাপ্রবাহ মারাত্মক রূপ নেওয়ার পরপরই কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই বিষয়ে সন্ধ্যার দিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে অবহিত করেন যে, বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আহত ব্যক্তিরা নিরাপত্তার স্বার্থে স্থান পরিবর্তন করে অন্য চিকিৎসা কেন্দ্রে চলে গেছেন। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি বহাল রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো পক্ষকেই নতুন করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষে জড়াতে দেওয়া হবে না। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো ঘটনা ঘটলে কিংবা জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত যেকোনো সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে গোটা এলাকায় পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত জোরদার রাখা হয়েছে।
সূত্র: কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।