প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও মানবিক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভোগা জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে রাতের আধারে নির্জন মেঠোপথে ফেলে রেখে যাওয়ার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে তাঁর পরিবারের স্বজনদের বিরুদ্ধে। নিঃস্ব ও অসুস্থ অবস্থায় সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কতিপয় সংবেদনশীল গ্রামবাসী এগিয়ে আসেন। পরিবারের এমন অমানবিক আচরণের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তাঁরা নিজেরা চাঁদা তুলে ওই প্রবাসীর চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আরও পড়ুন: পুরান ঢাকায় সংঘাতের জেরে উত্তেজনা: ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা
এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা যায়, জীবনের বহু বছর বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে স্বজনদের মুখে হাসি ফোটালেও দেশে ফেরার পর মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েন জামাল উদ্দিন। শারীরিকভাবে দুর্বল ও উপার্জনে অক্ষম হয়ে পড়ায় স্বজনরা একপর্যায়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে অনীহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে গভীর রাতের অন্ধকারে তাকে গ্রাম্য সড়কের পাশে ফেলে রেখে সরে পড়ে পরিবারের সদস্যরা। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করেন এবং সার্বিক পরিচর্যার ব্যবস্থা করেন।
মানবিক এই তাগিদ থেকে গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে একটি জরুরি অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। সংগৃহীত এই আর্থিক তহবিল দিয়ে জামাল উদ্দিনকে প্রাথমিক পর্যায়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার জোর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসকরা যদি মনে করেন যে তাঁর শারীরিক জটিলতা আরও বেশি এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে, তবে সেখান থেকে তাঁকে উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষায়িত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। আবহাওয়ার চরম বৈরী ভাব এবং টানা বর্ষণের কারণে গ্রাম থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থ সংগ্রহে কিছুটা সাময়িক বাধা সৃষ্টি হলেও দুপুরের পর বা বিকেলের মধ্যেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বরেণ্য অভিনেত্রী রিনা রহমান
এদিকে বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় প্রশাসনও দ্রুত সাড়াদান নিশ্চিত করেছে। সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম এই বিষয়ে জানান যে ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অমানবিক। এমন অসহায় মুহূর্তে একজন মুমূর্ষু নাগরিকের পাশে দাঁড়ানো মানবিক নৈতিক দায়িত্ব। সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিশেষ অনুশাসন প্রদান করেছেন।
একদা স্বজনদের জন্য প্রবাসে ঘাম ঝরানো মানুষটির এমন পরিণতি সমাজে নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়ের চিত্র ফুটিয়ে তুললেও, সখীপুরের সাধারণ অধিবাসীদের এই সময়োপযোগী ঐক্য ও মানবিক উদ্যোগ নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণে দ্রুত জামাল উদ্দিনের সুস্থতা নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
সূত্র: স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।