প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
গাজীপুর শিল্পনগরীর টঙ্গীস্থ সংবেদনশীল হাজী মাজার বস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ মাদকের ভয়াল থাবা ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এক অভাবনীয় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। বুধবার (৫ আগস্ট) গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই মেগা অভিযানে বিপুল পরিমাণ মারণনেশা হেরোইন, দেশীয় তীক্ষ্ণ অস্ত্রশস্ত্র, নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা ও মাদক বিপণনে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। চাঞ্চল্যকর এই তল্লাশি অভিযানের মাধ্যমে টঙ্গী অঞ্চলের অন্যতম বড় মাদক সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর চিত্র সামনে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: সলঙ্গায় ঘাতক বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত, ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কে ফ্লাইওভারের দাবি
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, রাত দুইটা থেকে শুরু হয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই বিশেষ কমান্ডো ধাঁচের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকে। অভিযানে উদ্ধারকৃত আলামতের তালিকায় রয়েছে প্রায় ২১৯ গ্রাম খোলা হেরোইন এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত ২ হাজার ১০০ পুড়িয়া প্যাকেটে ভরা আনুমানিক ১.৬ কেজি হেরোইন। এর বাইরে মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা এবং ২৮০ ওমানি রিয়াল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ১৫টি ধারালো রামদা, ২টি জাপানি সামুরাই, ১টি স্টিলের চাপাতিল, ১টি প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল এবং ১০টি স্টিলের ভারী পাইপ। অপরাধীদের আধুনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ১টি টাকা গণনা করার ডিজিটাল মেশিন, ১টি প্যাকেটজাতকরণ মেশিন, ৩টি ডিভিআর ক্যাসেট এবং স্বর্ণসদৃশ ৩টি চেইন, ৭টি আংটি ও ২টি ব্রেসলেট জব্দ করা হয়। এছাড়াও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ দুই মাদকসেবীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টঙ্গীর ঐতিহাসিক হাজী মাজার বস্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধী চক্র ও চিহ্নিত মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রকাশ্যে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও এতোটা বিস্তৃত পরিমাপে সচরাচর কোনো অভিযান দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক এই সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ প্রাণঘাতী আলামত ও অর্থ জব্দ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, বস্তির ভেতরে এ ধরনের ভারী অস্ত্রের উপস্থিতি ও অর্থ লেনদেনের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সুযোগ্য কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এই অভিযান রূপায়ন করা হয়। এতে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এই বিশেষ অভিযানে ডিবি পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), টঙ্গী পশ্চিম থানা এবং গাছা/টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে আইন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, কেবল সাময়িক তল্লাশি বা কিছু আলামত জব্দ করলেই মূল অপরাধ উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণের মাদকের মূল যোগানদাতা, হুন্ডি বা অর্থ লেনদেনের পথ এবং দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, গাজীপুর মহানগরকে অপরাধমুক্ত করা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে এ ধরণের ঝটিকা সাঁড়াশি অভিযান সামনেও চলমান থাকবে।
সূত্র: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্যাদি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।