বনানীতে স্বর্ণালংকার কিনতে গিয়ে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ , ১, সহযোগী পলাতক

বনানীতে স্বর্ণালংকার কিনতে গিয়ে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ১, সহযোগী পলাতক
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

রাজধানীর বনানী এলাকায় এক অলংকার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে অভিনব উপায়ে জাল টাকা গচ্ছিত রেখে স্বর্ণ কেনাবেচার সুবিধার্থে বড় ধরনের জালিয়াতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বনানী সুপার মার্কেটের একটি সুপরিচিত জুয়েলার্সে আনুমানিক ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার নকল বা জাল ব্যাংক নোট দিয়ে স্বর্ণালংকার ক্রয়ের সময় মো. রুবেল আহম্মেদ ফকির (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ ও জনতা। তবে উপস্থিত জনগণের তোপের মুখে উদ্ধার কার্যক্রমে বিচ্যুতি ঘটিয়ে তার সাথে থাকা এক দুর্ধর্ষ সহযোগী চতুরতার সঙ্গে কৌশলে দ্রুত চম্পট দিতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে ডিবির বিশাল অভিযান: বিপুল হেরোইন, নগদ টাকা ও অস্ত্র জব্দ

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) অপরাহ্নে এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডটি ঘটে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যম বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার বিশদ বিবরণে পুলিশ জানায়, বেলা চারটার দিকে বনানী সুপার মার্কেটের উক্ত অলংকার দোকানে দুইজন ব্যক্তি নিজেদের সাধারণ কাস্টমার বা ক্রেতা পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন। তারা দোকানের কর্মীদের জানান যে, এক নিকটাত্মীয়ের বিবাহসংক্রান্ত অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ২০ থেকে ২১ ভরি ওজনের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ক্রয় করতে চান।

দোকানের কর্মীরা তাদের পছন্দমতো গয়না উপস্থাপন করলে তারা বেশ কিছু অলংকার নির্বাচন করেন। চূড়ান্ত কেনাকাটা শেষে মোট বিল পরিশোধের সময় এলে তারা সাথে আনা একটি কালো রঙের বিশেষ ট্রলি ব্যাগ খুলে টাকার একাধিক মোড়ক বা বান্ডিল টেবিলের ওপর বের করে রাখেন। কিন্তু নোটের ছাপ, কাগজের মসৃণতা ও শারীরিক গুণাগুণ পরখ করে জুয়েলারির সচেতন কর্মচারীদের মনে চরম সন্দেহের উদ্রেক হয়। তারা প্রাথমিক নিবিড় নিরীক্ষার পর নোটগুলোকে ভুয়া ও জাল হিসেবে নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: গোপালপুরে ৫ দিন অনশনের পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পলাতক

প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে এবং কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হতে দেখে দুই ব্যক্তি অতি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংসংলগ্ন বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে মো. রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে ধরে ফেললেও চক্রের অপর সক্রিয় সদস্য দ্রুত কেটে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি বার্তা পেয়ে বনানী থানা পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ওই কালো ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে ট্রলিতে রাখা জাল হিসেবে চিহ্নিত ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার বিশালাকার নোটের স্তূপ জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক রেকর্ড ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া প্রতারক রুবেল আহম্মেদ ফকির কোনো সাধারণ অপরাধী নন। দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মোট আটটি ফৌজদারি মামলা পূর্বে থেকেই রজু রয়েছে। বর্তমান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের মূল শিকড় উন্মোচনসহ চম্পট দেওয়া সহযোগী সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে ডিএমপির বিশেষ টিম মাঠে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে।

সূত্র: ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ প্রেস নোটিশ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন