প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সুনামগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা শায়খ হুসাইন আহমদ নাছিরপুরী (রহ.) আর আমাদের মাঝে নেই। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল বহু বছর, তিনি অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রবীণ এই দ্বীনী ব্যক্তিত্বের ইন্তেকালে সুনামগঞ্জ জেলাসহ সমগ্র দেশের আলেম সমাজ এবং সাধারণ তৌহিদী জনতার মাঝে গভীর শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: বনানীতে স্বর্ণালংকার কিনতে গিয়ে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ , ১, সহযোগী পলাতক
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৩নং মিরপুর ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন প্রখর মেধা ও অসাধারণ বুজুর্গির অধিকারী। জীবনভর তিনি ইসলামী জ্ঞান প্রচার, ছাত্র তৈরি এবং বহুমুখী সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর অর্জিত ইলম, তাকওয়া, সামাজিক অবদান ও সাধারণ মানুষকে দ্বীনের পথে আনার নিরলস প্রচেষ্টা সর্বস্তরের মানুষের স্মৃতিতে চিরদিন অমলিন হয়ে থাকবে।
হযরত মাওলানা শায়খ হুসাইন আহমদ নাছিরপুরী (রহ.)-এর জীবন ছিল শতভাগ সুন্নতে নববীর অনুসারী। বহু মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনন্য ভূমিকা ছিল। ইসলামের সঠিক শিক্ষা ছড়ানো এবং বিদআত মুক্ত সমাজ গঠনে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। স্থানীয় আলেমগণ আবেগপ্লুত হয়ে জানান, তাঁর মতো এমন একজন নিবেদিতপ্রাণ, বিনয়ী ও বুজুর্গ আলেমে দ্বীনকে হারিয়ে আজ আলেমসমাজ ও আপামর জনতা এক অপূরণীয় অভিভাবক শূন্যতায় নিমজ্জিত হলো।
মরহুমের ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের আলেম-ওলামা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে তাঁর বাসভবনে ভিড় জমান। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। সকল বক্তাই আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান, মহান আল্লাহ যেন তাঁর দ্বীনী খেদমতকে কবুল করে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও ভক্তদের ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন।
সূত্র: স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।