প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার সংবেদনশীল চররুহিতা এলাকায় অতি তুচ্ছ ও সাধারণ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম নৃশংসতার এক বিভৎস চিত্র ফুটে উঠেছে। সুপারি গাছে চড়ে সুপারি পেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করায় রিয়াদ হোসেন (১২) নামের এক কোমলমতি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে ধারালো ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যার প্রায় কাছাকাছি সময়ে অর্থাৎ আনুমানিক ছয়টার দিকে ওই স্থানীয় জনপদে চাঞ্চল্যকর ও হীন এই হত্যাকাণ্ডের নির্মম ঘটনাটি ঘটে। মাত্র বারো বছর বয়সী এক নিরপরাধ শিশুর এমন হৃদয়বিদারক অকাল প্রয়াণে সমগ্র চররুহিতা গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এক গভীর শোক ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও সামাজিক নিরাপত্তার শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণনাশের হুমকি, ইসরায়েলে প্রত্যাবর্তন
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবেশগত তথ্য ও থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শনিবার বৈকালিক সময়ে চররুহিতা এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত রুবেল হোসেন স্থানীয় কিশোর রিয়াদ হোসেনকে একটি সুপারি গাছে চড়ে ফল পেড়ে আনার নির্দেশমূলক প্রস্তাব প্রদান করে। তবে গাছটি অতিরিক্ত উঁচু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া কিংবা নিজের অনিচ্ছাবশত কিশোর রিয়াদ ওই সুপারি গাছে উঠতে তাৎক্ষণিকভাবে অপারগতা ও অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। রিয়াদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসম্মতিকে অভিযুক্ত রুবেল হোসেন কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি; বরং সে হঠাৎ করেই অত্যন্ত উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এই বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা, গালাগালি ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডা চলার একপর্যায়ে রুবেল কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের সাথে থাকা একটি ধারালো ছুরি বের করে রিয়াদের শরীরের একাধিক স্থানে অতর্কিত ও উপর্যুপরি মারাত্মক আঘাত করতে শুরু করে।
ধারালো ছুরির একের পর এক উপর্যুপরি আঘাতে ১২ বছরের শিশু রিয়াদ মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং বাঁচার আকুতি জানিয়ে আর্ত চিৎকার করতে থাকে। রিয়াদের এই মর্মান্তিক আর্তচিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পেয়ে আশপাশের স্থান থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষজনের উপস্থিতি ও রক্তারক্তি দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে ঘাতক রুবেল হোসেন মুহূর্তের মধ্যেই স্থান ত্যাগ করে কৌশলে আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় অধিবাসীরা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষু অবস্থায় ক্ষতবিক্ষত রিয়াদকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই শিশুটির আকস্মিক মৃত্যু ঘটেছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন নির্মাণ সাইটে সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৫২৮ প্রবাসী
অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোর রিয়াদ নির্মমভাবে নিহত হওয়ার সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস ও বিশেষ তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থল চররুহিতা এবং হাসপাতাল পরিদর্শনে পৌঁছায়। পুলিশ কর্মকর্তা ও তদন্তকারী দল প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষ করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের যাবতীয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন। থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ও কারণ সম্পর্কিত অন্যান্য আইনি তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর ও অনভিপ্রেত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত একমাত্র পলাতক অভিযুক্ত রুবেল হোসেনকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে বিচার সুনিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ একাধিক সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে এলাকাবাসীর ক্ষোভ নিরসনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সাথে নিহতের পরিবারকে সব ধরণের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এক সামান্য গাছে ওঠাকে কেন্দ্র করে বালকের জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাটিতে শান্তি বজায় রাখতে টহল বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র: স্থানীয় সূত্র ও থানা পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।