প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তিকেন্দ্রিক পারিবারিক কলহ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন খবরের শিরোনাম হয়ে জনসাধারণের আলোচনার খোরাক জোগায়। বিশেষ করে যখন কোনো পরিচিত মুখ বা আইন অঙ্গনের কোনো ব্যক্তিত্ব এ ধরনের কোনো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন, তখন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও ভুল তথ্যের ডালপালা গজাতে সময় লাগে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সুপ্রিম কোর্টের পরিচিত আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত এবং তাঁর একসময়ের মক্কেল হুমায়রা জান্নাত নাঈমা ও হাবিবুর রহমান মিছবাহ দম্পতির পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। এই পুরো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের নাম অহেতুক জড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এবং প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত বক্তব্যে নিজের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যে মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগের শুরু থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বাস্তব চিত্র অত্যন্ত সুচারুভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
আরও পড়ুন: স্লিপার বাস বন্ধ হলে দুই হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে: মালিক সমিতি
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতের দেওয়া বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় আট থেকে নয় মাস আগের কোনো এক সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে হুমায়রা জান্নাত নাঈমা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। সেই সময় তিনি নিজের পারিবারিক কিছু জটিলতা ও ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে আইনগত পরামর্শ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যা একজন প্রফেশনাল আইনজীবী হিসেবে তিনি শুনেছিলেন। তবে যোগাযোগের একেবারে শুরুর দিকে আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত বিন্দুমাত্র ওয়াকিবহাল ছিলেন না যে, এই মক্কেল হুমায়রা জান্নাত নাঈমা অন্য কেউ নন, বরং তিনি হাবিবুর রহমান মিছবাহর স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কেল নাঈমা নিজেই তাঁকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্বামী তাঁকে স্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত ভালোভাবে দেখাশোনা করছেন এবং তাদের সংসার চমৎকার চলছে। তবে সে সময় নাঈমার মনে এক ধরনের সন্দেহ কাজ করছিল এবং তিনি ধারণা করছিলেন যে তাঁর স্বামী হয়তো অন্য কোথাও কোনো পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, যদিও এই ধারণার সপক্ষে তিনি কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট বা শক্ত প্রমাণ আইনজীবীর সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি।
একজন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল আইনজীবী হিসেবে সে সময় জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত মক্কেল নাঈমাকে কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পারিবারিকভাবে বসে নিজেদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝিগুলো মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে তাদের একটি ছোট সন্তান রয়েছে এবং সেই নিষ্পাপ সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা গভীরভবে বিবেচনা করে সংসারটি টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি মক্কেলকে নৈতিক ও আইনগত উভয় দিক থেকেই বুঝিয়েছিলেন। সে সময় নাঈমাও আইনজীবীর সেই কথায় সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি যখন হঠাৎ করে তাঁর স্বামীকে আইনগতভাবে ডিভোর্স বা তালাক দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তাঁর সুবিধামতো আইনজীবীর চেম্বারে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পূর্বনির্ধারিত সেই দিনটিতে মক্কেল নাঈমা নিজে আইনজীবীর চেম্বারে উপস্থিত হননি এবং তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সঠিক যোগাযোগও করা হয়নি, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়াটি সে যাত্রায় আর সামনে এগোতে পারেনি।
আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগে দপ্তরিকে জরিমানা ও সালিশ
দীর্ঘ কিছুদিন বিরতির পর গত ২৭ জুলাইয়ের দিকে নাঈমা পুনরায় আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান যে তিনি এই মুহূর্তে তাঁর নিজ মায়ের বাসায় অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে তাঁর স্বামী বর্তমান সময়ে তাঁর এবং তাঁদের সন্তানের কোনো ধরনের ভরণপোষণ বা খরচ বহন করছেন না। মক্কেলের এই অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তাঁর পূর্ণ সম্মতির ওপর ভিত্তি করে গত ২ আগস্ট হাবিবুর রহমান মিছবাহ সাহেবের ঠিকানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা হয়। আইনি নোটিশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিছবাহ সাহেব এবং তাঁর নিজস্ব আইনজীবী সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি কোনো দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই বা আদালতে না নিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে মীমাংসা করার একটি সদিচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই সুবাদে গত ১২ আগস্ট উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং আইনজীবীদের উপস্থিতিতে একটি সাম্য ও সমঝোতামূলক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উভয় পক্ষের পারিবারিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, ওই সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত থাকা প্রত্যেকেই নানাভাবে নাঈমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যাতে তিনি স্বামীর সংসারটি ভেঙে না দিয়ে তা টিকিয়ে রাখেন। কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত থেকে মক্কেল নাঈমা অত্যন্ত সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি কোনোভাবেই আর এই সংসার করতে ইচ্ছুক নন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয়। এই প্রসঙ্গে আইনজীবী তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী আইনগত ও মানসিকভাবে স্বাধীন এবং তিনি নিজের সংসার করবেন কি না বা কার সঙ্গে থাকবেন—এটি সম্পূর্ণ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্ত। এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে জোরপূর্বক কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বা অধিকার কোনো আইনজীবীর নেই, এবং তিনি কেবল একজন পেশাজীবী হিসেবে আইনগত পরামর্শ প্রদান ও সমঝোতার সদিচ্ছা নিয়েই কাজ করেছেন। অথচ এই সমস্ত বাস্তব ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে জড়িয়ে যে ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ বিস্তৃতির যুগে কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করেই কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রোপাগান্ডা চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত যেভাবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত পরিপক্বতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত কুৎসা ও অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব পাওয়া গেছে। পারিবারিক বিরোধ যেকোনো পরিবারেই যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে, কিন্তু সেই ব্যক্তিগত বিষয়টিকে আইনি সহায়তাকারীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এটি আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনজীবীরা সবসময় মক্কেলের কল্যাণ চান, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় মক্কেলের নিজের ওপরই নির্ভর করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, হুমায়রা জান্নাত নাঈমা এবং হাবিবুর রহমান মিছবাহর পারিবারিক বিরোধের জেরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আইনি প্রক্রিয়ার বাস্তব চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে পরিষ্কার হওয়ায় এখন আর বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের অসত্য তথ্য প্রচার থেকে সবাই বিরত থাকবেন এবং আইনি পেশার সঙ্গে জড়িত সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই কেবল সমাজের এই ধরনের অনভিপ্রেত জটিলতাগুলোর সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
প্রতিবেদনের সূত্র: আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাতের সংবাদ সম্মেলন ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।