প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় মাদকের তীব্র ছোবলে এক ভয়াবহ ও পশুতুল্য নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। নেশার কাঙ্ক্ষিত অর্থ যোগানে ব্যর্থ হয়ে জন্মদাত্রী মায়ের গলা ধারালো কাঁচি দিয়ে কেটে নির্মমভাবে হত্যা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত পাষণ্ড ছেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) ভোরে উপজেলার সীমান্তঘেঁষা শ্যামকূড় গ্রামে এই রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত হওয়া গর্ভধারিণী মায়ের নাম শখের বানু (৫৫)। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত ঘাতক পুত্র এখলাস উদ্দিন চতুরতার সাথে সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী ভারতে আত্মগোপনের চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসী ধাওয়া করে তাকে হাতেনাতে আটক করে পরবর্তীতে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণহানি বেড়ে ৮, কারখানা ভাঙচুর ও তীব্র উত্তেজনা
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এখলাস উদ্দিন সুদীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদকাসক্তিতে লিপ্ত ছিল। প্রতিদিনের নেশার খরচের জন্য সে তার পরিবারের ওপর, বিশেষ করে বৃদ্ধা মায়ের ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। শুক্রবার ভোরের দিকেও নেশা করার জন্য সে তার মায়ের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে। কিন্তু চাহিদামতো টাকা দিতে অসম্মতি জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এখলাস ধারালো কাঁচি দিয়ে শখের বানুর গলায় উপর্যুপরি আঘাত চালিয়ে গলা কেটে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করেন নিরাশ্রয় সেই মা।
আরও পড়ুন: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাহবুবকে ইডিসিএলে চাকরি দিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ঘটনার বিভীষিকা উন্মোচিত হয় সকালের দিকে, যখন নিহত নারীর ছোট ছেলের বধূ শখের বানুকে সকালের প্রাতরাশ পরিবেশনের উদ্দেশ্যে কক্ষে প্রবেশ করেন। সে সময় বিছানায় শখের বানুর রক্তাক্ত ও নিচ্ছল দেহ পড়ে থাকতে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করেন। তাঁর আর্তচিৎকারে স্বজনরা এবং প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অন্যদিকে নৃশংংসতা সম্পাদন করে ঘাতক এখলাস এলাকা ছেড়ে দ্রুত পালিয়ে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সীমান্তবর্তী রুটে যাত্রা করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন এবং মহেশপুর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
শ্যামকূড় ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, নেশার টাকার জের ধরেই এই কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে। পুলিশ নিহত শখের বানুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং এই বিষয়ে আইনানুগ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্র: স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মহেশপুর থানা পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।