প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি ও জীবন-জীবিকা রক্ষার স্বার্থে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় নদী ও রেকর্ডভুক্ত খালে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ এবং লবণাক্ততার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফসলি জমি সুরক্ষার জন্য প্রান্তিক কৃষকদের সুদীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ও আবেদনের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি ও সমর্থন জানিয়েছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। এলাকাটির কৃষিজীবী মানুষের জীবনমান ও ফসলের সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত এক নতুন স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ৫ গ্রাম গাঁজাসহ আতা গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের রেকর্ডীয় খালগুলো দীর্ঘকাল ধরে পুনঃখনন না করায় চরম মিষ্টি পানির সংকটে পড়েন সাধারণ কৃষকেরা। তাছাড়া লোনা পানির প্রভাবে জমিতে ধান চাষ ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন তীব্রভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে বিভিন্ন শাখা খালে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এসব বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষকদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয় এবং স্থানীয় অধিবাসীরা বাঁধ না ভাঙার আকুল আবেদন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর শরণাপন্ন হন।
আরও পড়ুন: দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট: রেকর্ড গড়ে সর্বোচ্চ লোডশেডিং
কৃষকদের গণস্বাক্ষর সংবলিত আবেদনের প্রেক্ষাপটে এবং সার্বিক জনস্বার্থ বিবেচনা করে খালগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় খনন না করা পর্যন্ত সাময়িকভাবে বাঁধ অপসারণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কৃষকদের জীবন-জীবিকার এই মৌলিক ও মানবিক দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ইতিবাচক সাড়া প্রদান করায় বাগেরহাট-৩ আসনের অভিভাবক ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের কৃষিজীবী ও সাধারণ জনগণ।
এলাকাবাসী জানান, মিষ্টি পানি সংরক্ষণের সুব্যবস্থা টিকে থাকায় চলতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ জমিতে ফসল উৎপাদন এবং পশুখাদ্যের অভাব দূর করা সম্ভব হবে। কৃষিবান্ধব এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের কারণে মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন জুড়ে আনন্দ ও প্রশংসার জোয়ার বইছে।
সূত্র: রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় কৃষকদের লিখিত আবেদনপত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।