প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার অন্তর্গত ধুপুড়িয়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে। নিজ বসতঘরের ভেতর থেকে মা ও তাঁর মাত্র চার বছর বয়সী শিশুকন্যার জোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) সকালের দিকে অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিষাদময় চিত্রটি জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়। উদ্ধার হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) এবং তাঁদের শিশু কন্যাসন্তান রাজিয়া (৪)। একই পরিবারের দুটি প্রাণ এভাবে প্রদীপ নিভে যাওয়ার মতো ঝরে পড়ায় সমগ্র গ্রাম জুড়ে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ প্রশাসন, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, আনুমানিক ছয় বছর পূর্বে প্রেমঘটিত সম্পর্কের সূত্র ধরে ধুপুড়িয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের সাথে কনিকা আক্তারের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে দাম্পত্য জীবন শুরুর পর থেকেই তাঁদের মধ্যে টুকিটাকি বিষয় নিয়ে নিয়মিত মনোমালিন্য ও পারিবারিক অসন্তোষ চলমান ছিল। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও গহিন কলহের একপর্যায়ে কনিকা আক্তার ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হয়ে চার বছরের শিশুসন্তান রাজিয়ার হাত ধরে পিতৃালয়ে প্রস্থান করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথিমধ্যে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন তাঁকে নানা বুঝিয়ে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে আনেন।
আরও পড়ুন: অস্ত্র ঠেকিয়ে এমপির সম্পত্তি দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা
শ্বশুড়বাড়িতে ফিরে আসার পরপরই চরম মানসিক যন্ত্রণায় ক্ষুব্ধ হয়ে কনিকা আক্তার শিশুকন্যাকে সাথে নিয়ে নিজের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ভেতরের দিক থেকে দরজা শক্তভাবে বন্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণ অতিক্রান্ত হওয়ার পর ঘরের রুদ্ধ দরজার ভেতর থেকে চার বছরের অবুঝ শিশু রাজিয়ার তীব্র আর্তচিৎকার শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা। এতে শঙ্কিত হয়ে আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে বারবার দরজা খোলার জন্য আহ্বান জানান। ভেতরের দিক থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় একপর্যায়ে স্থানীয়রা কাঠের দরজা ভেঙে কক্ষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের ঝুলন্ত আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় কনিকাকে এবং মেঝের ওপর নিথর ও নিচ্ছল অবস্থায় শিশু রাজিয়াকে পড়ে থাকতে দেখতে পান।
উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী অবিলম্বে মির্জাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে হেফাজতে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের সুব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যা নাকি পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সূত্র: মির্জাপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।