প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ময়মনসিংহ মহানগরীর মাসকান্দা এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মোহাম্মদ রাব্বি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত আবদুল খালেককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যান্ড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) গভীর রাতে নগরীর রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১:০০ ঘটিকায় র্যাব-১৪-এর ময়মনসিংহ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক ও কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান এই সাফল্যের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। গ্রেপ্তারকৃত খালেক নিজের জন্মদাতা বাবার ওপর অতীতের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন বলে সরাসরি স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি মন্টু ও সম্পাদক আল আমিন
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সামনে ছবি তোলার মুহূর্তে ঘটে যায় এক বিস্ময়কর ও নাটকীয় ঘটনা। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে নিজেকে শিক্ষিত দাবি করা অভিযুক্ত আবদুল খালেক ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে কথা বলতে থাকেন। খালেক সোজাসুজি দাবি করেন, তাঁর বাবাকে অতীতে কোপানো হয়েছিল এবং সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে উচ্চকণ্ঠে তিনি বলতে থাকেন, 'আমি তো একজন শিক্ষিত মানুষ, আমার কি এই জায়গায় আসার কথা ছিল? আপনাদের সমাজের আইনি ও সাংবাদিকতার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা হলে আমার মনে এত আগুন জ্বলত না। আমার জন্মদাতা বাবাকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছিল, তাই বদলা নিতে আমিও অপরাধীকে কুপিয়ে মেরেছি।'
আরও পড়ুন: মেলান্দহ থানা পরিদর্শন করলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকায় নিহত মোহাম্মদ রাব্বির সাথে দীর্ঘদিন ধরে আবদুল খালেকের পারিবারিক ও সামাজিক শত্রুতা চলে আসছিল। পূর্বে খালেকের বাবার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে যে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে রাব্বি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে খালেক সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। সেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ সন্ধান করছিলেন খালেক এবং অবশেষে সশস্ত্র উপায়ে রাব্বিকে কুপিয়ে হত্যা করে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনার তদন্তে নেমে র্যাব-১৪-এর একটি চৌকস দল অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে সফল অভিযান পরিচালনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা মো. সামসুজ্জামান স্পষ্ট করেন যে, আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থায় নেই। যেকোনো ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াতেই নিষ্পন্ন হতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরপূর্বক যথাযথ হত্যা মামলায় আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্তভাবে চলমান রয়েছে।
সূত্র: র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) ও থানা পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।