প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট অংশস্থ ওসমানীনগরে দুটি দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাসের মধ্যে এক লোমহর্ষক মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনায় উদীয়মান তরুণী বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৬) সহ মোট ৯ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল সোয়া ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন নামক এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত শিল্পী পেহেলির পিতা মো. বাবুল মিয়া (৫০) চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়ে বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
আরও পড়ুন: ফেসবুক বিজ্ঞাপনে পেমেন্ট সুবিধা হিসেবে যোগ হচ্ছে বিকাশ, বড় স্বস্তিতে দেশীয় উদ্যোক্তারা
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী দল থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সিলেট অভিমুখী ‘বেঙ্গল স্লিপার কোচ’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৯৮৭) এবং সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘ইউনিক পরিবহন’-এর একটি বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩) কাশিকাপন মোড়ে পৌঁছালে মুখোমুখি মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ধাক্কার তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা একটি নিচু ধানক্ষেতে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরেই পিষ্ট হয়ে সাতজন যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যান এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
আরও পড়ুন: বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন শায়খ হুসাইন আহমদ নাছিরপুরীর ইন্তেকাল, এলাকায় শোকের ছায়া
নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবের গ্রামের উদীয়মান বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবীর নাম রয়েছে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার শাওলসার মাজারের বার্ষিক ওরস ও সংগীতানুষ্ঠানে গান পরিবেশনের উদ্দেশ্যে বাবার সাথে সিলেট গিয়েছিলেন পেহেলি। অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত করে সকালে ভৈরবে ফিরে আসার পথিমধ্যেই এই কালান্তক সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়। নিহতের মা রোজিনা বেগম ও খালু মাসুম মিয়া অশ্রুসজল চোখে জানান, গানের জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার বড় স্বপ্ন ছিল মেয়েটির। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তরের পর রাতেই নিজ গ্রামে দাফন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি মহাসড়কে আটকে থাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দীর্ঘ এলাকা জুড়ে প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। সংবাদ পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ওসমানীনগর থানা পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে পৌছে ক্রেন ও রেকারের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত বাহন দুটি উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে উক্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। শেরপুর হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই জসিম মিয়া বিষয়টির সত্যতা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে জানান যে, দুর্ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
সূত্র: শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।