প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ভারত মহাদেশ বিভক্তিকরণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দেশভাগের করুণ অধ্যায়কে স্মরণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কোটি মানুষের আত্মত্যাগ ও ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য স্পৃহাকে বিশেষ মর্যাদায় ব্যক্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের গভীর বেদনা ও গৃহহারা মানুষের সীমাহীন অবদানের কথা তুলে ধরে একটি প্রগতিশীল, সুসংহত ও উন্নত ভারত বিনির্মাণের অকৃত্রিম অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তিনি ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে এই আবেগঘন ও প্রাজ্ঞ বক্তব্য তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রয়াণ, ঘটনাস্থলে এমপি মাছুম মোস্তফার শোক জ্ঞাপন
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দীর্ঘ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন যে, আজ বিশ্বজুড়ে ঐতিহ্যগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেশভাগের চরম বিভীষিকা স্মরণ দিবস পালন করা হচ্ছে। ইতিহাসের সেই বেদনাবিধুর সময়ে দেশভাগের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যেসব অগণিত সাধারণ মানুষ জীবনের সর্বস্ব হারিয়েছিলেন, তাঁদের সীমাহীন সাহসিকতা এবং জীবনযুদ্ধের কঠিন সংগ্রামকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে ভারত রাষ্ট্র। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসের ঐ অন্ধকারতম পর্যায় বহু নিরীহ পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করে উদবাস্তু হতে বাধ্য করেছিল। স্বজন হারানোর চরম বেদনা আর সীমাহীন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল তৎকালীন ভূখণ্ডের বহু নিরীহ জনগোষ্ঠীকে।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট, মাঠে এসপি নাছের রিকাবদার
তবে সেই দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যেভাবে দুর্গত মানুষগুলো নিজেদের মানসিক শক্তিতে নতুন করে বেঁচে থাকার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অসীম প্রতিকূলতাকে পরাস্ত করে শূন্য অবস্থা থেকে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করার সেই মানবিক সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রের উত্তরোত্তর অগ্রগতিতে তাদের পরবর্তী অসামান্য ভূমিকা ইতিহাস স্মরণ রাখবে। তাদের এই অবিচল মনোভাব গোটা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ভাষণের চূড়ান্ত পর্যায়ে নরেন্দ্র মোদি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্মরণ দিবসটি যেন সমগ্র দেশে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও অক্ষুণ্ণ ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত রাখার নতুন সংকল্প গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। একই সাথে বৈষম্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এক স্বনির্ভর ও উন্নত ভারত গঠনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রয়াসকে বেগবান করার আহ্বান ব্যক্ত করে নিজের বক্তব্য সমাপ্ত করেন তিনি।
সূত্র: ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।