রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ১১ দলীয় মোর্চার একক প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি বীর বিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে এই পদে যৌথভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত জোটের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এই ঐতিহাসিক মনোনয়নের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর বা ১৯৯১ সালের সংসদীয় পদ্ধতির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো পূর্ণাঙ্গ ভোটাভুটি ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হলো।

আরও পড়ুন: কাউনিয়ায় বৃষ্টিতে খাল খনন স্থগিত, কোষাগারে ফেরৎ ৯৯ লাখ টাকা

বিরোধীদের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান জাতীয় সংসদীয় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের পদে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে অভিজ্ঞ রাজনীতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে সমর্থন দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন গতিশীলতার জন্ম দেবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নদীভাঙন রোধে বড় পদক্ষেপ: হাটপাচিল থেকে ঠুটিয়া পর্যন্ত তীর সংরক্ষণ কাজের সূচনা

মিন্টো রোডের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রধান আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল প্রবীণ রাজনীতিবিদ মিয়া গোলাম পরওয়ার, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদসহ জোটভুক্ত শীর্ষ রাজনীতিকগণ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষে বিরোধী জোট থেকে রাষ্ট্রপ্রধান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী করেছিল। তৎকালীন নির্বাচনে সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী অভিজ্ঞ রাজনীতিবীদ আব্দুর রহমান বিশ্বাস উক্ত নির্বাচনে সংসদীয় ভোটে বিজয়ী হন। এরপর পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিজয়ী বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা এককভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়ে আসছেন। দীর্ঘ সময় পর ১১ দলীয় জোটের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিশেষ নতুন মাত্রার সূচনা করলো।

সূত্র: ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রেস ব্রিফিং ও মিডিয়া সেল।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন