প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে একটি বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সর্বদা সমুন্নত রাখতে এবং পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মাঝে পেশাদারিত্ব, শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস এবং কর্মদক্ষতার মান উন্নত করার লক্ষ্যে এ ধরনের প্যারেড আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নির্ধারিত সময়সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের সকাল ঠিক ৮টার সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সের সুপরিসর প্যারেড গ্রাউন্ডে এই আনুষ্ঠানিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সকালের স্নিগ্ধ আবহাওয়া ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্ঠান পুরো পুলিশ লাইন্স চত্বরে এক গম্ভীর ও পেশাদার ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ মনোবল ও সুদৃঢ় কাঠামোর পরিচায়ক হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত সুশৃঙ্খল পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সকল চৌকস পুলিশ সদস্যদের অভিবাদন এবং সুনির্দিষ্ট সালামি গ্রহণ করার জন্য প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মহোদয়। প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছানোর পর পুলিশ কমিশনার মহোদয় অত্যন্ত সুচারুভাবে পুরো প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া প্রতিটি কন্টিনজেন্টের শৃঙ্খলা, শারীরিক গঠন, টার্নআউট বা পোশাক-পরিচ্ছদের পরিপাটি ভাব, কর্মদক্ষতা এবং পেশাগত উৎকর্ষের বিভিন্ন সূক্ষ্ম দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন প্যারেডের অত্যন্ত দক্ষ প্যারেড কমান্ডার তথা মতিহার অপরাধ বিভাগের সুযোগ্য অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জনাব মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম, যাঁর সরাসরি সুদক্ষ কমান্ড ও পরিচালনায় পুরো প্যারেড কার্যক্রম অত্যন্ত সাবলীল ও ত্রুটিহীনভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। পুলিশ কমিশনার মহোদয় প্রতিটি প্লাটুনের সদস্যদের সুশৃঙ্খল অবস্থান এবং প্যারেডের নান্দনিক ভঙ্গি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ সদর ৯নং খাগডহড়ে রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজের সুসূচনা
প্যারেড পরিদর্শন ও কুচকাওয়াজ সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ লাইন্সের কনফারেন্স রুমে কিংবা নির্ধারিত উন্মুক্ত স্থানে উপস্থিত সকল স্তরের পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। তাঁর বক্তব্যে তিনি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা ও সুস্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে উল্লেখ করেন যে, একজন পুলিশ সদস্যকে সর্বদা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে হয়, তাই নিজের শরীর ও মন সুস্থ রাখা তাদের পেশাগত দায়িত্বের একটি অপরিহার্য অংশ। এই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি সকল পুলিশ সদস্যকে নিয়মিত শরীরচর্চা বা প্রাতঃভ্রমণ বজায় রাখার, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করার এবং সার্বিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কঠোরভাবে মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন।
পেশাগত শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন ঘোষণা প্রদান করে পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন যে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি সদস্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাত্রার জাস্টিস বা ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা হবে। কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রেখে যে সকল অফিসার ও ফোর্স অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের পরিচয় দেবেন, তাদের উপযুক্ত সম্মান ও পুরস্কারের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হবে। পক্ষান্তরে, কর্মক্ষেত্রে অবহেলা প্রদর্শনকারী বা পুলিশ বাহিনীর প্রচলিত শৃঙ্খলা এবং নিয়মের পরিপন্থী কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা গর্হিত কাজের সাথে নিজেকে জড়িত করবেন, তাকে আইন ও নিয়মের শাসন অনুযায়ী অবশ্যই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এই দ্বিমুখী ও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা পুলিশ বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত সকলে মনে করেন।
পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্বের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কমিশনার মহোদয় আরও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ প্রদান করেন যে, সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল হলো থানা ও পুলিশ। তাই দায়িত্ব পালনের প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ মাত্রার আন্তরিকতা, নিখাদ সততা এবং কাঠোর শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার না করে সাধারণ মানুষের সাথে সদাচরণ করতে হবে এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে সেবা প্রদান করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক, মানসম্মত এবং হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সকল পুলিশ সদস্যকে প্রয়োজনীয় ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সাধারণ নাগরিকেরা যেন পুলিশি সেবা নিতে এসে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এই মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণ সভার সফল সমাপ্তির মধ্য দিয়ে পুলিশ সদস্যদের মাঝে কাজের নতুন উদ্দীপনা ও জনসেবামূলক মানসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কমিশনার মহোদয়ের দিকনির্দেশনাগুলো অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেন এবং তা নিজেদের পেশাগত জীবনে অক্ষরে অক্ষরে পালনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ধরনের নিয়মিত প্যারেড ও শৃঙ্খলা মূলক কার্যক্রম কেবল পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বন্ধন ও চেইন অব কমান্ডকে শক্তিশালীই করে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গভীর আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। রাজশাহী মহানগরীর নিরাপত্তা রক্ষা এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অত্যন্ত কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
সূত্র: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) মিডিয়া সেল ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।