প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে মানবজীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অনুষঙ্গ হলো মুঠোফোন বা মোবাইল সেট, যা বর্তমানে কেবল যোগাযোগের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি কর্মতৎপরতার অপরিহার্য অংশ। কিন্তু নানা ধরনের অসাবধানতা, আকস্মিক দুর্ঘটনা কিংবা চুরির মতো অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের বহু মূল্যবান এই যোগাযোগের মাধ্যমটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই আমাদের চারপাশে ঘটে থাকে, যা অনেক সময় ভুক্তভোগী মানুষের জন্য গভীর মানসিক দুশ্চিন্তা ও আইনি জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করতে এবং খোয়া যাওয়া বহুমূল্য সম্পদ পুনরুদ্ধার করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত নওগাঁ জেলায় পুলিশ প্রশাসনের অত্যন্ত চৌকস ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে এক যুগান্তকারী ও মানবিক উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার জোয়ার বইয়ে দিয়েছে এবং পুলিশের ভাবমূর্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের অত্যন্ত সুযোগ্য ও দূরদর্শী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের অত্যন্ত প্রত্যক্ষ নির্দেশনা, নিবিড় মনিটরিং এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ ও সুদূরপ্রসারী এক আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস জুড়েই নওগাঁ জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিশেষ প্রযুক্তিগত শাখা তথা আইসিটি শাখা, অপরাধ দমন ও অনুসন্ধান সংক্রান্ত ক্রাইম শাখা এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অভিজ্ঞ ও দক্ষ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া বা মিসিং হওয়া মোট ৮০ (আশি) টি উচ্চমানের মোবাইল সেট সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত এই মুঠোফোনগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে দেখা যায় যে, এর সম্মিলিত আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকার কাছাকাছি। দীর্ঘ ও জটিল সাইবার ট্র্যাকিং এবং নিখুঁত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ পরিচালনা করে মোবাইলগুলো উদ্ধার করার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং অবশেষে নির্ধারিত দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে তা হস্তান্তর করার মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর তিন দিনের সিরাজগঞ্জ সফরসূচি প্রকাশ
উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ বহুমূল্য মোবাইল ফোন অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের সকালে নওগাঁ জেলা পুলিশ লাইনস্ কিংবা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সুপরিসর কনফারেন্স হলে বা প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজিত এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অর্ধশতের অধিক নারী, পুরুষ, বিভিন্ন বয়সী প্রবীণ বৃদ্ধ নাগরিক এবং কৌতূহলী ও আশাবাদী অনেক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে সম্মানিত পুলিশ সুপার নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকৃত সেই ৮০টি হারানো মোবাইল ফোন অত্যন্ত যত্নসহকারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেন এবং যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে নিজ নিজ প্রকৃত মালিকের হাতে তা সসম্মানে ফেরত দেন। দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের প্রিয় ও নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সেটটি এভাবে হঠাৎ করেই ফিরে পেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক মালিকই নিজেদের আবেগ সংবরণ করতে পারেননি এবং আনন্দে আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। হারানো মোবাইল ফিরে পাওয়ার এই আনন্দঘন মুহূর্তে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ জেলা পুলিশ ও পুলিশ সুপারের এই জনকল্যাণমূলক এবং ব্যতিক্রমী কাজের জন্য অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে উপস্থিত সুধীজন, গণমাধ্যমকর্মী এবং মোবাইল ফিরে পাওয়া সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত জোراলোভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের সাথে এতটাই গভীরভাবে মিশে গেছে যে, এটিকে আক্ষরিক অর্থেই মানুষের আধুনিক ‘জীবনসঙ্গী’ হিসেবে অভিহিত করা চলে। মানুষের একটি মোবাইল হারিয়ে গেলে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্য হারিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। জেলা পুলিশের আন্তরিক ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে বিভিন্নভাবে হারিয়ে যাওয়া বা মিসিং হওয়া এই মোবাইল সেটগুলো উদ্ধার করে পুনরায় সঠিক মালিকের হাতে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারায় পুরো জেলা পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত আনন্দিত এবং নিজেদের গভীরভাবে সম্মানিত বলে মনে করছে। তিনি আরও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, সাধারণ মানুষের এই ধরণের ছোট বা বড় যেকোনো সমস্যায় পুলিশ সর্বদা পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো মোবাইল উদ্ধারে তাদের প্রযুক্তিগত তৎপরতা ও অভিযান আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে আরও কিছু সতর্কতামূলক ও সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিড়ম্বনা থেকে তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারেন। বিশেষ করে সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করা, অপরিচিত কারো হাতে নিজের বহুমূল্য সেটটি সহজলভ্য না করা এবং ফোন হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আহ্বান জানানো হয়। নওগাঁ জেলা পুলিশের এই প্রশংসনীয় ও জনবান্ধব উদ্যোগ শুধু যে সাধারণ মানুষের খোয়া যাওয়া সম্পত্তি ফিরিয়ে দিয়েছে তা নয়, বরং পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক দূরত্ব ঘুচিয়ে একটি আস্থার সুদৃঢ় সেতু বন্ধন তৈরি করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীর এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এবং সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল ও বুদ্ধিজীবী সমাজ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: নওগাঁ জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।