সৌদিতে কারখানা অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, শোকের মাতম

সৌদিতে কারখানা অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, শোকের মাতম
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের হৃদয়বিদারক মৃত্যু হয়েছে। একটি সোফা তৈরির কারখানায় ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ও মারাত্মক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই উত্তরবঙ্গের নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শ্রমজীবী মানুষ। বাকি নিহতদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায়। মর্মান্তিক এই ট্র্যাজেডিতে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় ও প্রবাসীরা। রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) রাতে ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত হতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জামিরতা বিদ্যালয় ও হাসপাতালের উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর সাথে মতবিনিময়

স্বজনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৭ জন প্রবাসীর মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকসুন্দা ও দিঘিরপাড় গ্রামে। অবশিষ্ট ৫ জন নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা বলে স্বজনদের সূত্র নিশ্চিত করেছে। একই কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ছুটিতে দেশে থাকা আত্রাইয়ের মোহনঘোষ গ্রামের জহরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের বাবা ও দুই ছেলেও রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কালিকাপুরের গুফফার প্রামানিক, তাঁর দুই পুত্র মহুন ও সুমন প্রামানিক, রুবেল হোসেন, কলি প্রামানিক, সাহাগোলার ফরিদ শেখ, বিশা ইউনিয়নের শুভ ও সুমন এবং পারকসুন্দার জলিল প্রামানিক অন্যতম।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে মাত্র ৫০ টাকায় চিকিৎসা দিচ্ছে "সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার"

কারখানায় কাজের সময় রাতের কোনো এক মুহূর্তে রাসায়নিক বা দাহ্য পদার্থে আগুন ধরে মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীরা বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এই হৃদয়বিদারক খবর পৌঁছানোর পর থেকে নওগাঁ ও নাটোরের স্বজনদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। পুরো গ্রাম জুড়েই এক নেমে এসেছে শোকের স্তব্ধতা।

ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কারখানায় আগুনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যুদ্ধাদের অকাল মৃত্যুর খবর তিনি অবগত হয়েছেন। তবে হতাহতদের চূড়ান্ত তালিকা ও সঠিক পরিচয় দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই প্রবাসীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি উদ্যোগে কাজ করা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র: ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রবাসী সূত্র।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন