প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ কিংবা শহুরে উপশহরগুলোতে ইদানীংকালে পারিবারিক অনুশাসন, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক বন্ধনের চরম অবক্ষয়ের কারণে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে চলেছে, যা সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে হতবাক ও বিস্মিত করে দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার, পরকীয়া আসক্তি এবং অন্ধ আবেগের বশবর্তী হয়ে সংঘটিত নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায়ই স্থানীয় সমাজব্যবস্থাকে চরমভাবে নাড়া দিয়ে যায় এবং সংবাদ শিরোনামে স্থান করে নেয়। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন জনপদ হিসেবে দেশজুড়ে সুপরিচিত সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক শাহজাদপুর উপজেলা এলাকায় ঠিক তেমনই একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, বিব্রতকর ও কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিদেশে অবস্থানরত এক প্রবাসী স্বামীর সংসার ও দুই সন্তানের মায়া ত্যাগ করে এক নারী তাঁরই নিকটাত্মীয় বা সম্পর্কে আপন ভাতিজার বসতবাড়ির আঙিনায় এসে সম্পূর্ণ অনড় অবস্থানে দিনভর অনশন শুরু করেছেন এবং ভাতিজাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করার জন্য জোরালো দাবি তুলছেন, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ১৮ আগস্ট থেকে নারীদের জন্য বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস চালু
ঘটনার বিস্তারিত পটভূমি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শাহজাদপুর পৌর শহরের অত্যন্ত পরিচিত ও জনবহুল এলাকা হিসেবে খ্যাত পাড়কোলা গ্রাম। অভিযুক্ত ও পলাতক যুবকের নাম মো. আকাশ হোসেন, যিনি ওই এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা এবং দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটানো প্রবাসী আমানত হোসেনের সুযোগ্য ঔরসলজাত সন্তান হিসেবে স্থানীয় সমাজে পরিচিত। পারিবারিকভাবে আকাশ হোসেন একজন কলেজপড়ুয়া ছাত্র এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে বয়সে বড় এবং দুই সন্তানের জননী এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। জানা গেছে যে, ওই নারীর স্বামী জীবিকার তাগিদে সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর থেকেই দীর্ঘ প্রায় ৯টি বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করে আসছেন। স্বামীর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং পারিবারিক একাকীত্বের সুযোগ গ্রহণ করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে ভাতিজা আকাশ হোসেনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও জানাশোনা শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিবরণে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রথমে ব্ল্যাকমেইল বা নানা ধরনের গোপনীয় সুযোগ নেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটলেও পরবর্তীতে তা দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে এবং দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত এই গোপন ও অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক বহাল তবিয়তে চলতে থাকে। স্থানীয় লোকমুখে এও গুঞ্জন রয়েছে এবং পূর্বে বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ সালিশ-দরবারে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়ে উভয় পক্ষকে আর্থিক জরিমানা বা অর্থদণ্ড দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল, যা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে এই সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চাপা কান্নার মতো স্থানীয়দের অন্তরে বিরাজ করছিল। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে যখন ওই নারী বুঝতে পারেন যে তাঁর সাথে দীর্ঘ চার বছরের এই সম্পর্কে কেবল প্রতারণা করা হচ্ছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করা হচ্ছে না। এই পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে ওই নারী চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং দাবি করেন যে, আকাশ হোসেন তাঁকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন এবং নানা অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে সর্বমোট প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার একটি বড় আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন।
পরিস্থিতি যখন চরম আকার ধারণ করে এবং সম্পর্কের বেড়াজালে আটকে পড়ে ওই নারী সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েন, তখন তিনি আকাশ হোসেনকে স্থায়ীভাবে নিজের জীবনে পাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি চরম ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ওই নারীর দাবি অনুযায়ী, আকাশ হোসেনকে একমাত্র জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করার অলীক স্বপ্ন দেখে এবং তাঁকে বিয়ে করার শর্ত পূরণ করতে গিয়ে তিনি প্রায় এক বছর আগেই সম্পূর্ণ গোপনে তাঁর প্রবাসী স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত বৈবাহিক সম্পর্ককে আইনগত তালাকের মাধ্যমে ছিন্ন করেছিলেন। তবে অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর স্বামী সুদূর প্রবাসে অবস্থান করার কারণে তালাকের এই নোটিশ বা বিষয়টি তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি বলে তিনি নিজেই গণমাধ্যম ও স্থানীয়দের কাছে স্বীকার করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ওই নারী যখন তাঁর প্রবাসী স্বামীকে ত্যাগ করে আকাশকে আপন করে পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রেমিক আকাশ হোসেন তাঁকে কোনো প্রকার বায়নাক্কা বা বিয়ের কথা না মেনে উল্টো গা ঢাকা দেন এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে উধাও হয়ে যান। আকাশ হোসেনের এই পলায়নপর আচরণে ক্ষুব্ধ ও প্রতারিত হয়ে ওই নারী সরাসরি পাড়কোলা গ্রামে অবস্থিত আকাশদের বাড়ির সামনে এসে অবস্থান নেন এবং স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন শুরু করেন।
ঘটনার এই আকস্মিক ও নাটকীয় মোড়ে পুরো পাড়কোলা গ্রামসহ সমগ্র শাহজাদপুর পৌর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শত শত কৌতূহলী মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন ওই বাড়িতে একনজর অনশনরতা নারীকে দেখার জন্য এবং পুরো ঘটনার আড়ালে থাকা সত্যতা জানার জন্য। তবে এই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত কলেজছাত্র মো. আকাশ হোসেনের কোনো ধরনের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ ঘটনার সূত্রপাত হওয়ার পর থেকেই তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে গেছেন। যে কারণে ওই নারীর আনা অভিযোগের শতভাগ সত্যতা, শারীরিক সম্পর্কের দাবি এবং সাড়ে চার লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল, মুরুব্বি ও বুদ্ধিজীবীরা মনে করছেন যে, বর্তমান সমাজে এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত অ্যালার্মিং একটি বার্তা বহন করছে।
পরিশেষে বলা যায়, শাহজাদপুরের পাড়কোলা গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর এই অনশন এবং ভাতিজার সাথে পরকীয়া সম্পর্কের এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক কাঠামোর ভঙ্গুর অবস্থাকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেছে। আইনের দৃষ্টিতে তালাক কার্যকর করা এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্বাধীনতা থাকলেও প্রবাসী স্বামীর অবর্তমানে এ ধরনের ঘটনা সমাজ কোনোভাবেই সহজে মেনে নিতে পারে না। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুধীসমাজ অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কঠোর হস্তক্ষেপে এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হয় এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এ ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা নিরসনে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
সূত্র: স্থানীয় অনুসন্ধানী সংবাদ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।