প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় মাদক পাচারের অভিনব এক চেষ্টার মুখোমুখি হয়ে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের স্পর্শকাতর এলাকায় সুনির্দিষ্ট নজরদারির ভিত্তিতে এক যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে পায়ের মোজার ভেতর লুকিয়ে রাখা ২,০০০ (দুই হাজার) পিস মরণঘাতী ইয়াবাসহ মো. মনিরুজ্জামান ওরফে মনির (৫৫) নামের এক পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ভোরের দিকে শেরপুর থানাধীন বেতগাড়ী বাসস্ট্যান্ড মোড়ে উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার কোচে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ওই ব্যক্তির হেফাজত থেকে যোগাযোগে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল হ্যান্ডসেট জব্দ করেন ডিএনসির উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
আরও পড়ুন: বেলকুচিতে বাল্কহেডে চাঁদা না পেয়ে হামলা, আহত ২
ডিএনসি সূত্রে প্রাপ্ত বিবরণী হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজার ও ঢাকা হতে একটি বড় মাদকের চালান বগুড়া অঞ্চলে প্রবেশ করছে—এমন বিশ্বস্ত সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার একটি বিশেষ চৌকস টিম মহাসড়কের বেতগাড়ী এলাকায় অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। ভোররাতে রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী উক্ত যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসটি বেতগাড়ী পৌঁছালে সংকেত দিয়ে থামানো হয়। এরপর বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে সন্দেহভাজন মো. মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরকে নামিয়ে ব্যাপকভাবে দেহ তল্লাশি করা হয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে কিছু পাওয়া না গেলেও অধিকতর অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাঁর ডান পায়ে পরা মোজার ভেতর অতি সূক্ষ্ম কৌশলে ইয়াবার ছোট ছোট প্যাকেটগুলো মোড়ানো অবস্থায় রাখা রয়েছে। পরবর্তীতে সাক্ষীদের সম্মুখে মোজা খুলিয়ে ২ হাজার পিস গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
আরও পড়ুন: ১২ আগস্ট ফের লন্ডন যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, চিকিৎসকদের আশার বাণী
অভিযান পরিচালনাকারী ডিএনসি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে মাদক চোরচালানকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। পাচারের ক্ষেত্রে মোজার ভেতরের ফাঁকা স্থান ব্যবহার করা তেমনই একটি অভিনব উপায়। আটক মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার নৈশকোচে যাত্রী সেজে বিভিন্ন এলাকা হতে ইয়াবা এনে বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা সরবরাহ করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা পাওয়া গেছে।
মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় বগুড়া জেলার শেরপুর থানায় আটক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই চালানের মূল অর্থ জোগানদাতা, মূল হোতা এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অন্যান্য চক্রের সদস্যদের পরিচয় উদ্ঘাটন করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আটক আসামিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।