প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার বড়ধুল ইউনিয়নের চরাঞ্চলভিত্তিক চরবেল ঘাট এলাকায় যমুনা নদীপথে যাতায়াতকারী বালুবাহী একটি নৌযানে (বাল্কহেড) অবৈধভাবে চাঁদা দাবি ও পরবর্তীতে নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটেছে। আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে এই সহিংস ঘটনাটি ঘটে। হামলায় বাল্কহেডের সুকানি ও এক কর্মচারী দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের নলকায় ট্রাক-বাস সংঘর্ষে ড্রাইভারসহ নিহত ২, আহত ৮
নৌ-পুলিশের নিকট পেশ করা লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের বালুমহাল থেকে বালু বোঝাই করে ঢাকাগামী নৌরুটে রওনা হয়েছিলেন বাল্কহেডের প্রধান চালক বা সুকানি রুহুল আমিন। পথিমধ্যে বেলকুচির বড়ধুল ইউনিয়নের চরবেল ঘাট সংলগ্ন যমুনা নদীর এলাকা অতিক্রম করার সময় আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি চক্র স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে বাল্কহেডটির পথরোধ করে। এ সময় অভিযুক্তরা সুকানির কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রাথমিকভাবে চালক রুহুল আমিন ৫ হাজার টাকা প্রদান করলেও চাঁদাবাজরা তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে আরও বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করতে থাকে। অতিরিক্ত দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংঘবদ্ধ দলটি দেশীয় রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে বাল্কহেডে উঠে ব্যাপক ভাঙচুর চলায় এবং উপস্থিত নৌকর্মীদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালায়।
এই বর্বর হামলায় সুকানি রুহুল আমিন এবং কর্মচারী মো. রানা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীদের সহযোগিতায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিরাজগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুকানি রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, "আমরা নিয়ম মেনে বালু পরিবহন করছিলাম। কিন্তু চরবেল ঘাটে পৌঁছামাত্র সালাম, মাসুদ, রুজবেল, হাবিব ও কাউছারসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী জোরপূর্বক পথ আটকে দেয়। ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তারা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে ও না পেয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালায়।"
আরও পড়ুন: সিলেটে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় প্রমাণিত: আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড
স্থানীয় নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যমুনা নদীর ওই চরাঞ্চলীয় পয়েন্টে পণ্যবাহী নৌযান ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে এই অসাধু চক্রটি। ফলে যমুনা নদীপথে নিরাপদ পণ্য পরিবহনে তীব্র সংকট ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান জানান, বাল্কহেডে হামলা ও চাঁদাবাজির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ হস্তগত হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত সালামসহ জড়িত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: যমুনা সেতু পশ্চিম থানা নৌ-পুলিশ ও ভুক্তভোগী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।