প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিলেট সদর উপজেলায় চার বছর বয়সী নিস্পাপ শিশু ফাহিমাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে নৃসংশভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়েছে। বহুল আলোচিত ও মর্মান্তিক এই হত্যা মামলায় একক অভিযুক্ত আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড অর্থাৎ ফাসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় প্রদান করেছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সঙ্গে বিচারক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ ও নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের অধীনস্থ সোনাতলা গ্রামে এক অবর্ণনীয় নির্মম অপরাধের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রতিবেশী জাকির হোসেন ছোট্ট শিশু ফাহিমাকে তামাকজাত পণ্য বা সিগারেট কিনে আনার ছলচাতুরি দেখিয়ে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আঁটকে শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে। পৈশাচিক নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি তীব্র যন্ত্রণায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে অপরাধ ঢাকতে আসামি জাকির শিশুটির গলা চেপে ধরে নির্মমভাবে হত্যা করে।
আরও পড়ুন: সলঙ্গায় ঘাতক বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত, ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কে ফ্লাইওভারের দাবি
নৃশংস অপরাধ সংঘটনের পর ধরা পড়ার চরম ভয়ে আসামি লাশ গুম করার হীন পরিকল্পনা আঁটে। সে নিথর দেহটি একটি ট্রাভেল সুটকেসে ভরে টানা দুদিন ধরে নিজের শোবার ঘরে গোপনে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে বাদাঘাট এলাকার একটি নির্জন ডোবার পচা জলে সুটকেসবন্দি মরদেহটি ফেলে দিয়ে আসে। এই রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার পর দিন অর্থাৎ ৮ মে নিহতের ক্ষুব্ধ ও শোকার্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিবিড় তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহ শেষে আদালতে সুনির্দিষ্ট চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি, বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শেষে অপরাধীর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায়ের পর ভুক্তভোগী পরিবার আদালত প্রাঙ্গণে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ে এই রায় কার্যকরের জোর দাবি জানান।
সূত্র: সিলেট মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল ও এজাহার নথি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।