এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫%

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫%
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৭.৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। সাধারণ দৃষ্টিতে একটি জাতীয় পাবলিক পরীক্ষায় এই হারের পতনকে বৃহৎ অংশ হতাশা বা পিছিয়ে পড়া হিসেবে বিবেচনা করলেও শিক্ষাবিদ, নীতি-নির্ধারক ও সমাজ বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। তাঁদের মতে, কৃত্রিমভাবে বা শিথিল মূল্যায়নের মাধ্যমে পাসের হার শতভাগে উন্নীত করার প্রক্রিয়ার চেয়ে প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে যথার্থ মূল্যায়ন করা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

আরও পড়ুন: পাকুন্দিয়ায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন, ১০ দফা বাস্তবায়নের আকুল আহ্বান

শিক্ষা খাতের গুণগত মান উন্নয়ন করতে হলে শুধুমাত্র পাসের পরিসংখ্যান বাড়িয়ে আত্মতৃপ্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। বরং একাডেমিক পরীক্ষার যোগ্যতার মানদণ্ড আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক সফলতা কখনো ঢালাওভাবে সবাইকে উত্তীর্ণ করার ওপর নির্ভর করে না। প্রকৃত সাফল্য ও সার্থকতা তখনই অর্জিত হয়, যখন একজন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যসূচি থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো দক্ষতা অর্জন করে এবং স্বীয় যোগ্যতায় ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রসর হতে পারে।

আরও পড়ুন: দ্বারিয়ারপুরে কাঁচাবাজারে আগুন: সুতার দোকান পুড়ে ছাই, দগ্ধ ১

বর্তমানের নবগঠিত সরকার ও শিক্ষা প্রশাসনের সামনে প্রধানতম জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত কেবল উত্তীর্ণের সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীরা কতটা জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারলো তা সুনিশ্চিত করা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, গণপাস বা অটোপাসের সংস্কৃতি একটি জাতির ভবিষ্যৎ মেধা ও ভিত্তিকে ক্রমান্বয়ে দুর্বল করে দেয়। একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ও শৃঙ্খলামুখী পাঠ্য অভ্যাস, কঠোর অধ্যবসায়, যথাযথ যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন এবং পাঠদানের গুণগত মান সুনিশ্চিত করা। কৃত্রিম পাসের সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত মেধা বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করাই আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া কাম্য।

চলতি ফলাফলে যেসব অদম্য শিক্ষার্থী তাদের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর সর্বোচ্চ গ্রেড এ প্লাসসহ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সকলকে জানাই অশেষ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। অর্জিত এই জিপিএ তাদের মেধা, ত্যাগ ও চেষ্টার যোগ্য স্বীকৃতিস্বরূপ। অন্যদিকে, যেসব পরীক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারোনি বা অনুত্তীর্ণ হয়েছো, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। একটি মাত্র পাবলিক পরীক্ষার সাময়িক ফলাফল কারো সম্পূর্ণ জীবন বা মেধার চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করে দিতে পারে না। অদম্য ইচ্ছা ও নতুন উদ্দীপনা নিয়ে পুনরায় মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা শুরু করলে দীর্ঘ ভবিষ্যৎ যাত্রায় সাফল্য অর্জন করা অবশ্যই সম্ভব।

সূত্র: শিক্ষা বোর্ড ও এডুকেশন ডেস্ক।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন