প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় একেএম ছামিউল হক (২৭) নামের এক নবীন সহকারী জজ অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) ভোরে মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় এই নিদারুণ ঘটনা ঘটে। সড়কটিতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রডবোঝাই ভারী ট্রাকের পেছনে দ্রুতগামী প্রাইভেটকারের সজোরে ধাক্কা লাগলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারের চালক ইদ্রিস আলী (৪৬) মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৬২.২৫%
নিহত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা একেএম ছামিউল হক জামালপুর জজ আদালতের প্রশাসনিক আওতাধীন ইসলামপুর উপজেলার সহকারী জজ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নেত্রকোনা জেলা সদরের সাতপাই ছেটগাড়া এলাকার বাসিন্দা একেএম ফজলুল হকের সন্তান। তাঁর এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে বিচার বিভাগ, সহকর্মী, স্বজন ও পরিচিত মহল জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: ১/১১-তে ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে তারেক রহমানকে বন্দি রাখার তথ্য প্রকাশ
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, ভোরে প্রাইভেটকার যোগে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সড়কের পাশে কোনো সংকেত ছাড়াই দাঁড়িয়ে ছিল একটি রডবাহী ট্রাক। অন্ধকারের কারণে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি সরাসরি ট্রাকের পেছনের অংশে প্রচণ্ড গতিতে আছড়ে পড়ে। এতে প্রাইভেটকারের সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বিচরক ছামিউল হকের মৃত্যু ঘটে। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করেন।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারো চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং বেপরোয়াভাবে রাতে রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠে এসেছে।
সূত্র: জামালপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।