সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও জীবননাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে একাদশ শ্রেণির এক নারী শিক্ষার্থীকে বারবার যৌন নিপীড়নের তীব্র অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতের সরাসরি আদেশে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত হুমায়ুন আহমেদ (৩০) নামে ওই ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বাঘবের বাজার এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সামনে আসার পর পুরো এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, 'ঢাকা ডিক্লারেশন' ঘোষণার উদ্যোগ

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের অন্তর্গত মধুরকান্দি গ্রামের অধিবাসী। তিনি গত বেশ কিছুদিন যাবৎ রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে পেশ ইমাম পদে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তাঁর ঘরে দুটি সন্তানও রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকার সুবাদে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর একপ্রকার সুসম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ যাতায়াত গড়ে ওঠে। এই পরিচিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি উক্ত তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং নিজের প্রথম স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করবেন বলে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন।

এজাহারে উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৪ মে রাতে অভিযুক্ত ইমাম কৌশল অবলম্বন করে ওই ছাত্রীকে মসজিদ সংলগ্ন নিজের নির্ধারিত কক্ষে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন হুমায়ুন। প্রাণভয়ে তরুণী প্রথমে মুখ না খুললেও পরবর্তীতে গত ১৭ জুলাই অভিযুক্ত তাঁর নিজস্ব বাসভবনে ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে পুনরায় শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।

পরপর দুই দফা নিপীড়নের পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মারাত্মক শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের লোকজনের কাছে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে স্বজনরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। কিছুটা সুস্থ হয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার বিয়ের সুনির্দিষ্ট দাবি জানালে অভিযুক্ত হুমায়ুন সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং উল্টো পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকেন। কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা সুবিচারের আশায় সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত নালিশি মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: পুরান ঢাকায় সংঘাতের জেরে উত্তেজনা: ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা

আদালত আবেদনটির গুরুত্ব অনুধাবন করে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানাকে কড়া নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মামলা রুজু করে আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া এই বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, বিজ্ঞ আদালতের আইনি নির্দেশনা মোতাবেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সকল প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

সূত্র: বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ ও আদালত এজাহার কপি।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন