জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়: দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেছে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। আজ শনিবার কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনের শান্ত পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী '২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি'-র উদ্বোধন করেছেন। এটি কেবল একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার জাতীয় অঙ্গীকার।
উদ্বোধন ও কর্মসূচির প্রেক্ষাপট শনিবার দুপুরে কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালুমঘাট সংরক্ষিত বনের প্রাঙ্গণে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণ করেন। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি সরকারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, "একটি গাছ কেবল অক্সিজেনের উৎস নয়, এটি জীবনের সুরক্ষা কবজ। আমরা চাই প্রতিটি গ্রাম, শহর এবং প্রতিটি আঙিনা সবুজে ভরে উঠুক।"
আরও পড়ুন: চীনের অনন্য উদ্ভাবন: সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার
মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই মহতি উদ্যোগে শামিল হয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু বনায়ন নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরিতেও সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রজাতির ১১টি গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির সংহতি প্রকাশ করেন।
কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় মোট দেড় কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরবর্তীতে এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে কেবল ফলজ বা বনজ গাছ নয়, বরং ওষুধি এবং স্থানীয় জলবায়ুর সাথে মানানসই বৃক্ষ রোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে অশনি সংকেত দেখা যাচ্ছে, তা থেকে রক্ষা পেতে বনায়নের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এই ২৫ কোটি গাছ এক বিশাল 'কার্বন সিঙ্ক' হিসেবে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশনায় উল্লেখ করেছেন, শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, রোপণকৃত গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে 'বৃক্ষ বন্ধু' গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দিগন্ত বাংলার বিশ্লেষণ একটি টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা অপরিহার্য। রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তবায়নে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সরকারের একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে। যদি এই লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় তা এক অনন্য ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ দেশবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি একটি জাতীয় সচেতনতামূলক আন্দোলন। আমরা আশা করি, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা প্রত্যেকেই এই কর্মসূচিতে অংশ নেব এবং অন্তত একটি করে চারা রোপণ করব।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।