জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম-অপহরণের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | দিগন্ত বাংলা নিউজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

ক্যাম্পাসের কাঁঠাল তলা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে দেখা যায়, যেখানে তারা শিবিরের কর্মকাণ্ডকে 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' এবং 'রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র' হিসেবে আখ্যায়িত করে।

বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের হুঙ্কার

বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় যেমন—গুম, অপহরণ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা দাবি করেন, প্রকৃত ভুক্তভোগীদের আড়ালে রেখে কৃত্রিম ইস্যু তৈরি করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য ও অবস্থান

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “গুম, অপহরণ কিংবা নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা কাম্য নয়। যারা এসব ঘটনার নাটক সাজিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা সময়ের দাবি। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, অপপ্রচার এবং গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না।”

আরও পড়ুন: রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদকে গুলি করে হত্যা: নেপথ্যে আধিপত্যের লড়াই

আরও পড়ুন: রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদকে গুলি করে হত্যা: নেপথ্যে আধিপত্যের লড়াই

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। এটি নিছক রাজনীতি নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত অবিলম্বে এই অপতৎপরতার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

ক্যাম্পাসে অস্থিরতার নেপথ্যে কী?

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যকার মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বাড়ছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে আবেগী ও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সচেতন শিক্ষক মহল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান

সমাবেশ থেকে ছাত্রদল নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান যেন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। একইসাথে, ইন্টারনেটে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের সাইবার অপরাধের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা ক্যাম্পাসে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ চান। রাজনৈতিক ব্যানারে এমন বিক্ষোভ বা পাল্টা-বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই এই কর্মসূচিতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্লেষণ: গুজব বনাম বাস্তবতা

ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যখন গুম বা অপহরণের মতো গুরুতর বিষয়কে পুঁজি করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, তখন তা জননিরাপত্তার জন্য হুমকির সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির দ্রুত নিরসন প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত, নয়তো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন