বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী: "জনস্বার্থই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য"

দেশব্যাপী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আজ শনিবার কক্সবাজারের পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই মহতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে তিনি সাম্প্রতিক বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং রাজস্ব নীতিতে ভারসাম্য আনতে যে পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে, তা নিয়ে বিরোধী দলের অযৌক্তিক হট্টগোলে সরকার কান দেবে না।

বাজেটে ট্যাক্স ও জনস্বার্থের প্রেক্ষাপট প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আসন্ন বাজেটে মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে। এটি একটি জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিরোধী দল এই যৌক্তিক কর বাড়ানোর কারণে চরম নাখোশ হয়েছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "আমরা কি জনগণের স্বাস্থ্যের চেয়ে তাদের অসন্তোষকে বেশি গুরুত্ব দেব? বাজেটের এই সিদ্ধান্ত দেশের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য, সাধারণ মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য। বিরোধী দল যা-ই বলুক, জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।"

কৃষক কার্ড ও উন্নয়ন দর্শন বিএনপি বরাবরই সাধারণ মানুষের বন্ধু—এই কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তিনি ঘোষণা দেন যে, দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদে কোনো প্রকার বাধা যেন না আসে, সেজন্য 'কৃষক কার্ড' প্রবর্তন করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা সরকারি কৃষি সহায়তা, সার ও বীজের নিশ্চয়তা পাবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনাবাদী জমিগুলোকে চাষাবাদের আওতায় এনে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলপ্রেমে এক কাতারে অপু-বুবলী

ব্রাজিলপ্রেমে এক কাতারে অপু-বুবলী

বাঁকখালী নদী ও স্থানীয় উন্নয়ন দাবি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল কক্সবাজারের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বাঁকখালী নদী কক্সবাজারের মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর ভাঙনে হাজার হাজার একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, নদীর দুকূল রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হোক।"

এছাড়া এমপি লুৎফুর রহমান কাজল কক্সবাজারের পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। তিনি বলেন, অনেকে আতঙ্ক নিয়ে পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যেন তাদের পুনর্বাসন বা খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়, সেদিকে নজর দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও আজ কক্সবাজারের খালপাড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। তিনি নিজে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। নিজের হাতে মাটি কাটার মাধ্যমে তিনি যেন উন্নয়ন কাজের প্রতি সাধারণ মানুষকে আরও উৎসাহিত করে তুললেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ ও খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।

দিগন্ত বাংলার পর্যবেক্ষণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কক্সবাজার সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সরকার এখন তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের রাজনীতির চেয়ে সরকারের অগ্রাধিকার যে জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন, তা আজকের বক্তব্যের মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়েছে। দিগন্ত বাংলা নিউজ বিশ্বাস করে, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণসঞ্চার হবে।

কক্সবাজারের উন্নয়ন মানেই পুরো দেশের পর্যটন ও অর্থনীতির নতুন দুয়ার উন্মোচন। পাতলী খাল খননের এই প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে স্থানীয় কৃষকরা নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবে। আমরা আশা করি, সরকার তাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখবে।

 

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন