কসবায় আলিম পরীক্ষায় নকল সরবরাহ: শিক্ষককে কারাদণ্ড, ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

কসবায় আলিম পরীক্ষায় নকল সরবরাহ: শিক্ষককে কারাদণ্ড, ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় চলমান আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রসমূহে অসাধু উপায়ে অনিয়ম ও নকল সরবরাহের দায়ে এক মাদরাসা শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় অসদুপায় অবলম্বনের অপরাধে ৫ জন আলিম পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্রের দুই শিক্ষককে পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরিচালিত এই অভিযানে আধুনিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কঠোর এ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন: কাজিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুল বহিষ্কার

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে আলিম শ্রেণির ‘ইসলামের ইতিহাস’ বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিকট অবৈধভাবে অসদুপায় ও অসাদু উপায়ে প্রশ্ন সমাধান বা উত্তরপত্র সরবরাহ করার ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায়। ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তে কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে অভিযোগের সত্যতা পান কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মনিরুল ইসলাম, যিনি রানিখার এমদাদুল বারী মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অনৈতিক সহায়তার প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণ ও গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থা:

  • ঘটনাস্থল: কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজ আলিম পরীক্ষা কেন্দ্র, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
  • অনুষ্ঠিত পরীক্ষা: আলিম শ্রেণির 'ইসলামের ইতিহাস' বিষয়।
  • দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক: মনিরুল ইসলাম (শিক্ষক, রানিখার এমদাদুল বারী মাদরাসা)।
  • প্রদত্ত সাজা: ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড (ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে প্রশাসনিক শাস্তি)।
  • পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: নকল গ্রহণের দায়ে ৫ জন পরীক্ষার্থীকে চলমান পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার।
  • শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কেন্দ্রের দ্বায়িত্বে অবহেলার কারণে ২ জন শিক্ষককে পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতির আদেশ।
  • প্রশাসনের বক্তব্য: পাবলিক পরীক্ষা সমূহের স্বচ্ছতা রক্ষা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো শতবর্ষী রহিতনের পাশে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন!

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার সঠিক মানবন্টন ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত অসৎ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত আবশ্যক। কসবা উপজেলা প্রশাসনের এই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সংবাদ সূত্র: কসবা উপজেলা প্রশাসন, কেন্দ্র পরিদর্শন রিপোর্ট এবং দিগন্ত বাংলা নিউজ অনলাইন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন