প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এক বিরল ও অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম হাতেনাতে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ না করে কিংবা কোনো সংঘাতের পথ না বেছে, উল্টো স্ত্রীকে তাঁর প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে ৫ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন এক স্বামী। শুধু তাই নয়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকালে নিজ দায়িত্বে নবদম্পতিকে বাসে তুলে বিদায় জানান তিনি। এমন ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে।
আরও পড়ুন: কসবায় আলিম পরীক্ষায় নকল সরবরাহ: শিক্ষককে কারাদণ্ড, ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম রেজার স্ত্রী সুমাইয়া পারভীন (২৫)-এর সঙ্গে রায়গঞ্জ উপজেলার ভূয়ট গ্রামের আউয়ালের ছেলে আসাদুল ইসলাম (২৮)-এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সূত্রে দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী সেলিম রেজার মনে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছিল। ঘটনার দিন সোমবার দিবাগত রাতে সেলিমের কৌশলগত পদক্ষেপেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সেলিম রেজা ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান। সেই সুযোগে সুমাইয়া পারভীন মোবাইল ফোনে তাঁর প্রেমিক আসাদুলকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। কিন্তু কৌশলী সেলিম রেজা কিছুক্ষণ পরেই আকস্মিকভাবে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং নিজ শয়নকক্ষে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে সেখানে জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী সেলিম রেজা কোনোপ্রকার মারামারি বা বিশৃঙ্খলা না করে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং স্ত্রীর ইচ্ছে অনুযায়ী প্রেমিকের সাথেই তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন: এনায়েতপুরে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও লুটপাট
ঘটনা সম্পর্কিত মূল বিষয়াবলী:
- ঘটনার স্থান: আমবাড়িয়া গ্রাম, মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন, তাড়াশ উপজেলা, সিরাজগঞ্জ।
- ঘটনার সময়: ২৭ জুলাই (সোমবার) দিবাগত রাত ১২টার দিকে।
- মূল পাত্র-পাত্রী: সুমাইয়া পারভীন (২৫), আসাদুল ইসলাম (২৮) ও সেলিম রেজা (সাবেক স্বামী)।
- সম্পর্কের ধরন: ফেসবুক কেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক।
- ঘটনার সমাপ্তি: স্বামী সেলিম রেজার উপস্থিতিতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে কাজী ডেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন।
- স্থানীয় ইউপি সদস্যের মতামত: মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মালেক হোসেন জানান, "সম্পর্কটি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন ছিল। তবে স্বামী নিজে উপস্থিত থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।"
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সমগ্র তাড়াশ উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মীমাংসা ও সামাজিক সংঘাত এড়াতে স্বামীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্থানীয় জনমনে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সংবাদ সূত্র: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সূত্র এবং দিগন্ত বাংলা নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।