প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চরম অপেশাদার আচরণ ও দায়িত্বহীনতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অসুস্থ কোলের শিশুকে ‘স্যার’ সম্বোধন না করে সৌজন্যবশত ‘ভাই’ বলে ডাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা না দিয়েই পরিবারটিকে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও সেবাপ্রার্থীর স্বজনদের মধ্যকার তুমুল তর্ক-বিতর্কের একটি ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার ঝাড় উঠেছে।
আরও পড়ুন: তাড়াশে স্ত্রীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিলেন স্বামী
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই চিকিৎসকের উদ্দেশে বলছেন, "কক্ষে প্রবেশ করেই আপনাকে প্রথমে সালাম জানিয়েছি, এরপর ভাই বলে সম্বোধন করেছি। আপনি এমন কোনো গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?" এর জবাবে ক্ষুব্ধ চিকিৎসক কোনো সহানুভূতি বা পেশাদারিত্ব না দেখিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, "আপনি এখান থেকে চলে যান, আপনার সাথে আমার আর কোনো কথা নেই।" ভুক্তভোগী স্বজনদের দাবি, একটি সামান্য ও স্বাভাবিক সম্ভাষণকে কেন্দ্র করে তাদের মুমূর্ষু শিশুটিকে কোনো প্রকার চিকিৎসা না দিয়েই কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়, যা চিকিৎসাসেবার নৈতিকতা ও প্রশাসনিক বিধিমালার পরিপন্থী।
ঘটনাক্রম ও উদ্ভূত সামাজিক প্রতিক্রিয়া:
- ঘটনার স্থান: রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝালকাঠি জেলা।
- মূল অভিযোগ: ‘স্যার’ এর পরিবর্তে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা না প্রদান করা।
- সামাজিক মাধ্যমের দৃশ্যপট: বাকবিতণ্ডার ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় পোস্ট হওয়ার পরপরই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
- জনসাধারণের ক্ষোভ: আমজনতার করের টাকায় পরিচালিত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন সমাজ।
- নাগরিক দাবি: সরকারি কর্মচারীদের জনসেবামুখী মনোভাব গড়ে তোলা এবং চিকিৎসাকাজে নিয়োজিত কর্মীদের প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করার জোরালো দাবি উঠেছে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে পাড়কোলা মহিলা মাদরাসার জোড়া সাফল্য
নেটিজেনরা মনে করছেন, সরকারি যেকোনো দফতরে সেবা নিতে আসা নাগরিকরা কারো অনুগ্রহ চাইতে যান না। জনসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নুন্যতম সৌজন্যমূলক আচরণ পাওয়া যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এই ধরনের অপেশাদার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
সংবাদ সূত্র: সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্র, ভুক্তভোগী পরিবার ও দিগন্ত বাংলা নিউজ অনলাইন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।