চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় জোরালোভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় জোরালোভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, আকাশসীমা নিরাপদ রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করে তোলার জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী নিয়মিতভাবে আধুনিকায়ন ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছে। সময়ের আবর্তে আধুনিক যুদ্ধের কৌশল এবং সমরাস্ত্রের প্রযুক্তিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিমানবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে একটি। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে এক নতুন ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে, যা আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চীনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানগুলো বাংলাদেশের বিমানবহরে যুক্ত করার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি প্রক্রিয়ায় দেশ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এগিয়ে গেছে বলে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ের এই পরিকল্পনা কেবল সামরিক শক্তির পরিধি বাড়াবে না, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম পাড়ে কোটি টাকার হেরোইনসহ দুই কারবারি আটক

সম্প্রতি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক সম্মানিত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নিখুঁত হিসেবে পরিচিত জে-১০সিই যুদ্ধবিমানগুলো বাংলাদেশের বহরে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক খসড়া চুক্তিপত্র বা ড্রাফট এগ্রিমেন্ট সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা এবং প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে, যা এখন বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে ধাবিত হচ্ছে। জে-১০সিই যুদ্ধবিমানগুলোকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং কার্যকরী আধুনিক মাল্টি-রোল ফাইটার হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একই সঙ্গে আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁত আক্রমণ পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম। উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমমানের যুদ্ধবিমানের তুলনায় এই চাইনিজ যুদ্ধবিমানগুলো আর্থিক দিক থেকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং তুলনামূলক কম দামে আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া যায়, যা উন্নয়নশীল দেশের বাজেটের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিমানগুলো সংগ্রহের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হলেও চূড়ান্ত চুক্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এবং আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি বা গোপনীয় বিষয়গুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এর পেছনে কূটনৈতিক গোপনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক সামরিক বাণিজ্যের প্রচলিত নিয়মাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদনে এবং আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকগুলোর প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার জন্য আনুমানিক কুড়ি থেকে চব্বিশটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই বৃহৎ পরিসরের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে তা দেশের বিমানবাহিনীকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করে তুলবে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ভাতিজার প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের দাবিতে অনশনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা

বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বাস্তব চিত্রও বাংলাদেশের এই নতুন সামরিক নীতি নির্ধারণের পেছনে অত্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিভিন্ন সামরিক সংঘাত এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা, অপারেশনাল দক্ষতা এবং রণকৌশলগত সাফল্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। ওই সমস্ত সংঘাতে এই যুদ্ধবিমানগুলো যেভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে এবং শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করেছে, তা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক এভিয়েশন সিস্টেমে সজ্জিত এই বিমানগুলোর সফল ব্যবহারের রেকর্ড বিবেচনা করেই বাংলাদেশ এগুলো ক্রয়ের বিষয়ে নিজের আগ্রহকে আরও বেশি জোরালো করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাকে সমকক্ষ ও শক্তিশালী রাখাই বর্তমান সরকারের এই কৌশলগত পদক্ষেপের মূল অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করার এই উদ্যোগের ফলে সামরিক শক্তির আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। চীন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের সম্পর্ক সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে, যার ফলশ্রুতিতে এই বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। যুদ্ধবিমান ক্রয়ের এই প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর দেশীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দেশের সাধারণ মানুষ এবং সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন যে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই ধরনের আধুনিক পদক্ষেপ দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্বকে চিরতরে অক্ষুণ্ণ রাখবে। আকাশসীমার নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর সংযুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী ও পেশাদার করে গড়ে তুলবে বলে সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত হওয়ার বিষয়টি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সাশ্রয়ী মূল্য, মাল্টি-রোল ফাইটার হিসেবে এর বহুমুখী কার্যকারিতা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতে এর সফল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে এই বিমানগুলো ক্রয়ে গভীরভাবে উৎসাহিত করেছে। চূড়ান্ত চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই বিমানগুলো অচিরেই বাংলাদেশের আকাশসীমায় ডানা মেলবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অদম্য প্রহরী হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের এই দূরদর্শী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের প্রতিটি মানুষের মনে এক নতুন আত্মবিশ্বাস ও গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনের সূত্র: সরকারি তথ্য ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক কূটনৈতিক প্রতিবেদন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন