প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম এবং চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এবং সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের মূলধারার অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বহু প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আজ এক নতুন অবস্থানে এসে উপনীত হয়েছে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা এবং নানা ধরনের রাজনৈতিক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে দেশের জনগণ যখন একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে শহর ও মহানগরের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় নানা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার পরও দলটির তৃণমূলে যে সাংগঠনিক শক্তির বিস্তার ঘটেছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই দুরূহ সংগ্রামে জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠার দাবি করে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ নিয়মিতভাবেই তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে চলেছেন।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে গভীর রাতে প্রেমিকা ও তার বাবা-মাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় যুবক আটক
খবর ও রাজনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত অত্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে অর্থাৎ গত ছাব্বিশ আগস্ট বুধবার রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি বিশেষ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা শেষে দলের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ব্রিফিংয়ে দলের শীর্ষপর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য প্রদান করেন প্রবীণ ও পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। এই যৌথ সভা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান কোথায় রয়েছে এবং আগামী দিনে কোন নীতিতে দল পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে এই সভা থেকে।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই যৌথ সভার সমাপ্তির পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন যে বিএনপি বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সাংগঠনিকভাবে সুদৃঢ় একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বিগত দিনে দলের ওপর দিয়ে যে সমস্ত দমনপীড়ন ও রাজনৈতিক বৈরী হাওয়া বয়ে গেছে, তা কাটিয়ে উঠে নেতাকর্মীরা আজ আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত রয়েছেন। সারা দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন মোকাবিলা করতে সক্ষম। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মাধ্যমে দলটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে একটি স্থায়ী স্থান দখল করে নিয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন। অতীতে নানা ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ নেতাকর্মীদের অবিচল আনুগত্যের ফলেই দলটি আজ এই অপ্রতিরোধ্য অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে বলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে অভিমত ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের হাসপাতালে এসির কম্প্রেসর বিস্ফোরণে ১৫ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু
জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী আরও অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে বিএনপি কখনো এ দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেনি এবং ভবিষ্যতেও কখনো করবে না। বাংলাদেশের মেহনতি ও অবহেলিত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দলটি সবসময় আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছে এবং জনগণের দেওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারা নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। অতীতে নানা চক্রান্তের মাধ্যমে দলটিকে জনবিচ্ছিন্ন করার যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, এ দেশের দেশপ্রেমিক জনতা সবসময় বিএনপির পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের এই নিবিড় আত্মিক সম্পর্কের ফলেই আজ বিরোধী শক্তিগুলোর সব অপপ্রয়চার ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং দলটি আরও বেশি শক্তিশালী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে পুঁজি করেই তারা সামনের দিনে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার রূপরেখা বাস্তবায়ন করবেন বলে দলের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন যে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটার ফলে মানুষ আজ একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। বছরের পর বছর ধরে চলা ভীতি, আতঙ্ক এবং রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবসান ঘটে এখন সাধারণ মানুষ নিজেদের মতামত প্রকাশ করার এক দারুণ সুযোগ লাভ করেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে দেশের আপামর জনসাধারণের দীর্ঘ লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে, যাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের ফলে দেশ সঠিক ট্র্যাকে ফিরতে শুরু করেছে এবং জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকারগুলো ক্রমান্বয়ে ফিরে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসাসূচক বক্তব্য প্রদানকালে রুহুল কবির রিজভী বলেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত অত্যন্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নানামুখী রাজনৈতিক সমালোচনা এবং প্রতিপক্ষের নানা ধরনের অপপ্রচারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চরম স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই কর্মতৎপরতা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের মাঝে দিন দিন তাঁকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলছে বলে তিনি জোরালো মন্তব্য করেন। নানা ধরনের মিথ্যা অপবাদ ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হলেও সাধারণ মানুষ এখন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারছে এবং সরকারের কাজের প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করছে। স্বচ্ছতা ও সততার এই রাজনীতির কারণেই দেশের জনগণ আজ সম্মিলিতভাবে বর্তমান প্রশাসনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং দেশের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সভা শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যে রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন, তা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনগণের আস্থাকে পুঁজি করে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির পথচলা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি পরিপক্ব ও গতিশীল করে তুলতে সাহায্য করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার, আইনের শাসন এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যয় দলটি ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবে রূপ লাভ করুক—এটাই আজকের দিনে দেশবাসীর প্রধান প্রত্যাশা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং সমৃদ্ধির নতুন শিখরে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনের সূত্র: দলীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও রাজনৈতিক সংবাদ সংগ্রহ টিম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।