প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাড়িমালিককে নৃসংসভাবে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে গুম করার চেষ্টার এক ভয়ংকর ও রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে গৃহকর্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক নারীকে হত্যার পর তাঁর মৃতদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিনে পেঁচিয়ে বাড়ির পেছনের অংশে ফেলে রাখার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে নিজস্ব ভবনের এক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় থানা পুলিশ ওই ভবনের আঙিনা ও পেছনের নিচু এলাকা থেকে মোট ৯টি পলিথিনের প্যাকেটে মোড়ানো খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করে। তবে এখন পর্যন্ত মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক ও পা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: ৫০০ টাকা ঘরভাড়ার জন্য মাথার চুল বেচলেন মা রেহানা
ভয়াবহ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনার পরপরই লাইলী আক্তার নামের এক নারী ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লাইলী আক্তার এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজন সহযোগী জড়িত থাকার বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে তাঁর নিজের স্বামী আবুল কালাম আজাদ এবং অন্য তিন সহযোগী রবিউল, সোহেল ও ইমনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ক্রাইম সিনের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
আরও পড়ুন: বেলকুচিতে বাল্কহেডে চাঁদা না পেয়ে হামলা, আহত ২
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া ভাড়া কেন্দ্রিক বাদানুবাদ নাকি অন্য কোনো বড় আর্থিক ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই লোমহর্ষক খুন সংগঠিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিরা ফরিদা ইয়াসমিনকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর লাশ গুমের সুবিধার্থে অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় টুকরো টুকরো করে পলিথিন মোড়কজাত করে ফেলে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছিল বলে ধারণ করা হচ্ছে।
ঘটনা নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলিথিনে আটক উদ্ধারকৃত দেহাংশগুলো ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে লাশের বাকি অংশ অর্থাৎ মাথা ও পা উদ্ধারে অভিযান জোরদার রয়েছে। আটক লাইলী আক্তারকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পলাতক স্বামী আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও মূল মোটিফ উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: দেবিদ্বার থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।