৫০০ টাকা ঘরভাড়ার জন্য মাথার চুল বেচলেন মা রেহানা

৫০০ টাকা ঘরভাড়ার জন্য মাথার চুল বেচলেন মা রেহানা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পারিবারিক চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটন মাঝেমধ্যে মানুষকে এমন করুণ এবং অবিশ্বাস্য পরিস্থিতির মুখোমুখি এনে দাঁড় করায়, যা সাধারণ সুস্থ মস্তিষ্কে কল্পনা করাও দুষ্কর। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাসিন্দা রেহানা খাতুনের জীবনের নির্মম বাস্তব গল্প তেমনই এক বুকফাটা বেদনার রূপ নিয়েছে। দুই শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাথা গোঁজার একটি সামান্য আশ্রয়ের জন্য অভাবের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করছেন এই নারী। তবে শত চেষ্টার পরও মাত্র ৫০০ টাকা বকেয়া ঘরভাড়া মেটাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি, যা স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে মরা খাল সচল, শতভাগ কাজ শেষে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে দুই সন্তানকে আগলে রাখতে রামপালে একটি খুদে ভাড়া ঘরে বাস করতেন রেহানা। কিন্তু প্রতিনিয়ত কাজের অভাব ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে প্রতি মাসের মাত্র ৫০০ টাকার বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। পাওনা টাকার তাগাদায় অবশেষে সেই খুদে বাসাবাড়িটুকুও হাতছাড়া হয়। মাথা গোঁজার ন্যূনতম আশ্রয় হারিয়ে বর্তমানে খুলনা-মোংলা রেলপথের পাশে খোলা আকাশের নিচে অনিরাপদ ও স্বাস্থ্যহীন পরিবেশে সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে রাত যাপন করছেন এই মা।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার আড়ালে থাকা সত্যিটি প্রকাশ পায় স্থানীয় এক নারী প্রতিবেশীর নজরে। একদিন রেহানাকে মাথায় চুলহীন অবস্থায় দেখে কুশল ও কারণ জিজ্ঞাসা করতেই অঝোর ধারায় চোখের পানি ফেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে কান্নাজড়ানো ভাষায় রেহানা জানান, অভাবের তাড়নায় ৫০০ টাকা বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতেই নিজের সুদীর্ঘ চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট নিরবে সহ্য করে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ করেন এই নিরাশ্রয় নারী। বর্তমানে থাকার মতো কোনো নিরাপদ মাথা গোঁজার স্থান যেমন নেই, তেমনি প্রতিদিন সন্তানদের খাবারের জোগান দিতেও চরম বেগ পেতে হচ্ছে তাঁকে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি নীতিমালায় জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন ও পর্যবেক্ষণ পেশ

সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে ওই অসহায় পরিবারটিকে রক্ষা করার জোর দাবি উঠে এসেছে এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দুটি নিষ্পাপ সন্তানের নিরাপদ শারীরিক সুরক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী বাসস্থান ও পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা জরুরি। এক নিষ্পাপ জননীর কাছে সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও সামান্য বাসস্থানের নিশ্চয়তা কোনো বড় চাওয়া না হলেও, রেহানার জীবনসংগ্রামে সেটাই এখন একমাত্র ও সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন