শাহজাদপুরে মরা খাল সচল, শতভাগ কাজ শেষে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির

শাহজাদপুরে মরা খাল সচল, শতভাগ কাজ শেষে ২০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: এম এ হান্নান / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে মৃত ও অবৈধ দখলে থাকা একটি প্রাকৃতিক খালে পুনরায় জলের প্রবাহ ফিরে এসেছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত-এর ধারাবাহিক নির্দেশনায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ তদারকিতে গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর বাজার সংলগ্ন ছোট সেতু থেকে লালপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ খালটির পুনঃখনন কাজ শতভাগ সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।

আরও পড়ুন: কালনায় ভাগীরথী নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেলেন বৃদ্ধ রামপ্রসাদ

খাল খননের মূল উদ্দেশ্য অর্জনের পাশাপাশি অবৈধ দখলের হাত থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমিও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। খালটি উদ্ধারের সুবিধার্থে এবং স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে খালের সীমানায় অনিয়মিতভাবে গড়ে ওঠা ১০টি বসতবাড়ি এবং একটি দোতলা শপিং মার্কেট উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই খালটি ঐতিহাসিক করতোয়া নদীর সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকায় বহু বছর পর খালে নতুন করে পানির স্রোতধারা তৈরি হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে এনেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতার এক বিরল ও অনন্য নজির স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বরাদ্দকৃত বাজেটের সম্পূর্ণ কাজ শতভাগ মানসম্মতভাবে শেষ করার পরও প্রকল্পের সার্বিক খরচ থেকে অতিরিক্ত ২০ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪ টাকা বাঁচিয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের নন-ওয়েজ খাতের অর্থ সাশ্রয় করে সুনির্দিষ্ট দুটি পয়েন্টে ৬ ফুট ব্যাসের মোট ১৬টি শক্তিশালী আরসিসি রিং পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় খালের দুই পাড়ে ৭১৪টি ফলজ ও বনজ চারা রোপণ করে এলাকাকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সলঙ্গায় ঘাতক বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত, ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কে ফ্লাইওভারের দাবি

দীর্ঘদিন পর মরা খালে পানি ও স্রোত ফিরে আসায় আনন্দে উদ্বেলিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সরিষাকোল গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩০) অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে সরকারপ্রধান ও প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। মাকড়কোলা গ্রামের তরুণ আজিম (১৮) বলেন, জীবনে প্রথমবার এই খালে বর্ষার নবীন পানি প্রবাহিত হতে দেখে তিনি বাকরুদ্ধ ও আনন্দিত। মশিপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল করিম (৩৫) স্মৃতিচারণ করে বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর অবৈধ দখল ও পলি জমার কারণে খালটি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এখন খাল সচল হওয়ায় নৌযান চলাচল ও কৃষি সেচে সুবাতাস বইছে। এই সফল কার্যক্রমে সমগ্র শাহজাদপুরবাসীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন