দীর্ঘ ১৫ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ ১৫ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় ও বর্ষীয়ান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় সুদূর যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবশেষে নিজ জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। প্রবাসে টানা দীর্ঘ চিকিৎসার কঠিন পর্ব শেষ করে দেশে ফেরার সময় এই কালজয়ী নায়কের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী এবং জামাতা। প্রিয় অভিনেতার প্রবাস থেকে স্বদেশে ফেরার সংবাদে ঢালিউড প্রাঙ্গণসহ তাঁর কোটি ভক্তের হৃদয়ে বইছে আনন্দের বার্তা।

আরও পড়ুন: ৩ আগস্টের ঐতিহাসিক এক দফা ঘোষণা ও গণজাগরণের মাইলফলক

ঢাকার মাটিতে পা রাখার পরপরই বিমানবন্দরে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন বরেণ্য এই সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব। সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিবাদনের জবাবে তিনি অত্যন্ত বিনম্র ও আবেগঘন কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে পরম করুণাময়ের দরবারে দোয়ার আর্জি জানান। সংক্ষিপ্ত আলাপকালে আবেগাপ্লুত ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, তিনি সুস্থ দেহে স্বদেশে ফিরতে পেরে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেও সর্বদা দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণে প্রার্থনা করেন এবং পরম শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সবার আন্তরিক ভালোবাসা ও দোয়া প্রত্যাশা করছেন।

বরেণ্য এই অভিনয়শিল্পীর শারীরিক অসুস্থতার ইতিবৃত্ত থেকে জানা যায়, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে তিনি মারাত্মক ব্রেন টিউমারের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সফল অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মস্তিষ্কে ক্যা'ন্সা'র শনাক্ত করা হয়। এরপর টানা ১৫ মাসেরও বেশি সময়জুড়ে তাঁকে নিবিড় চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে তিনি প্রায় ১০০টির মতো জটিল কেমোথেরাপি সফলভাবে গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ও ধকলপূর্ণ এই পথপরিক্রমায় চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আন্তরিক সেবায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন: পেকুয়ায় বন্যা পরবর্তী দুর্ভোগে ৫ কন্যা সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন

উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে গুণী এই অভিনেতার পুত্র মিরাজুল মইন জয় আশার আলো জাগানিয়া তথ্য প্রদান করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, তাঁর পিতা আগের থেকে অনেকটাই ভালো বোধ করছেন এবং শারীরিক অবস্থা বেশ স্থিতিশীল। চিকিৎসার বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ধাপগুলো সুচারুভাবে শেষ করে দেশে প্রত্যাবর্তন করলেও তাঁকে পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার স্বার্থে নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকদের চিকিৎসাসংক্রান্ত গাইডলাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে হবে।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের স্বর্ণালী অধ্যায়ের অন্যতম প্রাণপুরুষ ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকনন্দিত হয়েছেন। রুপালী পর্দার বাইরে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি জয় করেছেন কোটি মানুষের মন। প্রিয় এই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের দ্রুগামী ও পূর্ণ শারীরিক সুস্থতার জন্য সারাদেশের অধিবাসী, সহকর্মী এবং অগুণতি ভক্ত অনুরাগী বিশেষ প্রার্থনা ব্যক্ত করছেন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন