ফতুল্লায় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতার, গুলিবর্ষণে পুলিশ আহত

ফতুল্লায় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতার, গুলিবর্ষণে পুলিশ আহত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধীচক্রের অবৈধ কার্যক্রম দমনের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলখ্যাত ফতুল্লা থানা এলাকার অপরাধ জগতের বিরুদ্ধে এক রোমহর্ষক ও সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অপরাধ দমনে মাঠে নেমে একদল দুর্ধর্ষ সশস্ত্র মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের মুখোমুখি হয়। সংঘটিত এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে অপরাধীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলশ্রুতিতে কুখ্যাত দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। একই সাথে তাদের গোপন আস্তানা ও দখল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি সুনির্দিষ্ট ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি সমগ্র নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে এবং সাধারণ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার শান্তিকামী জনসাধারণ।

আরও পড়ুন: পাবনায় চলন্ত ট্রেনের নিচে র আত্মহত্যাচেষ্টা করা কিশোরীকে জীবন বাজি রেখে বাঁচালেন মহেন্দ্রপুরের সাহসী যুবক

ঘটনার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের ঠিক দুপুর আনুমানিক ৩:১৫ ঘটিকার সময় ফতুল্লা মডেল থানার অন্তর্গত অত্যন্ত জনবহুল ও সংবেদনশীল ইসদাইর রেলস্টেশন এলাকার পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত মাওলানা আব্দুর রহমানের বাড়ির প্রাঙ্গণসংলগ্ন সড়কে এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালিত হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় থানা এলাকার চিহ্নিত ও পরোয়ানাভুক্ত মাদক কারবারিদের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছিল। উক্ত আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী চক্রের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য মরিয়া হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আভিযানিক দলটির ওপর তারা কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই অতর্কিতভাবে বেশ কয়েক রাউন্ড অবৈধ পিস্তলের প্রাণঘাতী গুলি বর্ষণ শুরু করে। অতর্কিত এই সশস্ত্র আক্রমণের মুখে ফতুল্লা থানা পুলিশের আভিযানিক দল নিজেদের জীবন রক্ষা এবং সরকারি অস্ত্র ও জানমাল নিরাপদ রাখতে কঠোর আত্মরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জীবননাশের সুনির্দিষ্ট হুমকি এবং সন্ত্রাসী কর্তৃক লাগাতার গুলিবর্ষণের মুখে বাধ্য হয়ে ফতুল্লা মডেল থানার আভিযানিক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই নিঃ) মো. রফিক, বিপিএম এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই নিঃ) নন্দিত চন্দ্র সরকার তাদের সরকারিভাবে ইস্যুকৃত অস্ত্র ব্যবহার করে আত্মরক্ষার্থে মোট পাঁচ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোঁড়েন। দুই পক্ষের এই আকস্মিক ও তীব্র গুলিবিনিময় ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তিনজন সদস্য গুরুতর জখম হয়ে আহত হন। অন্যদিকে, পুলিশের পাল্টা গুলি ও প্রতিহত করার প্রচেষ্টায় কুখ্যাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি জসিম (২৪)-এর ডান পায়ের ঊরুতে একটি গুলি বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকেই রক্তাক্ত জসিম এবং তার প্রধান সহযোগী মোহন (২৩)-কে সম্পূর্ণ অপ্রতিরোধ্য কৌশলে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃত জসিমের পিতার নাম রেজ্জাক এবং মোহনের পিতার নাম আব্দুস সালাম; উভয়েরই স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ফতুল্লা থানাধীন ইসদাইর এলাকা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন: লোডশেডিং বাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের চিঠি আইজিপিকে

অভিযান সমাপ্তির পর ধৃত অপরাধীদ্বয়ের দেহ ও আশেপাশের এলাকা পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি করে তাদের প্রত্যক্ষ হেফাজত থেকে ১টি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১ টি অস্ত্রসংলগ্ন ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ তালিকা প্রস্তুতপূর্বক উক্ত অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ আলামত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এই সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া সন্ত্রাসী জসিম এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জখমপ্রাপ্ত তিন পুলিশ সদস্যকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

উক্ত ন্যক্কারজনক ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক ও সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে একটি অস্ত্র মামলা এবং পুলিশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ, সরকারি কাজে নগ্ন বাধা প্রদান ও জখম করার অপরাধে আরেকটি পৃথক অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং অস্ত্রধারী সিন্ডিকেটের বাকি পলাতক ২০/২৫ জন সহযোগীকে দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ জগতের সাথে সম্পৃক্ত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

সূত্র: ফতুল্লা মডেল থানা প্রেস নোট ও অপরাধ দমন শাখা।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন