হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এসপি মোহাম্মদ শাহিনুর আলমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এসপি মোহাম্মদ শাহিনুর আলমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক রুটিন বদলি এবং কর্মস্থল পরিবর্তনের ধারা কর্মজীবনের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে, যার মাধ্যমে কর্মীরা নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের নিয়োজিত করেন। দেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা বিধান, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করে চলা বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর মধ্যে হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দীর্ঘ কর্মজীবনে তাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং আন্তরিকতার ছাপ রেখে যখন অন্য কোনো কর্মস্থলে পদায়ন বা বদলি হয়ে যান, তখন সহকর্মীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কর্মক্ষেত্রের এই আনুষ্ঠানিক বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধাদের কাজের স্বীকৃতি এবং তাদের প্রতি সম্মান জানানোর এক অনন্য মাধ্যম। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে এমনই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যা সংশ্লিষ্ট সকলের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে গেছে।

আরও পড়ুন: খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও চিকিৎসাসেবা পরিদর্শনে মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ

খবর ও তথ্যের বিবরণ অনুযায়ী, গত পঁচিশ আগস্ট তারিখে রাজধানী ঢাকার উত্তরাঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট সময়ে হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে এই জাঁকজমকপূর্ণ ও আবেগপূর্ণ বিদায় অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত ওই দিন বিকেল চারটা ত্রিশ মিনিটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির অত্যন্ত সুচারুভাবে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাইওয়ে পুলিশ প্রধান ও সম্মানিত অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বা অ্যাডিশনাল আইজি জনাব ফারুক আহমেদ মহোদয়। তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি সুনির্দিষ্ট গাম্ভীর্য ও উচ্চপর্যায়ের পেশাদারিত্ব লাভ করেছিল, যা তরুণ কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিদায়ী কর্মকর্তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের বিভিন্ন স্মৃতির রোমন্থন করে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিদায়ী অতিথি হিসেবে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আসনে উপস্থিত ছিলেন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান, যিনি সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্বে উন্নীত হয়েছেন। তিনি এর আগে হাইওয়ে পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার বা এসপি হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং তাঁর কর্মদক্ষতার জন্য সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সড়ক মহাসড়কের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে যে অসাধারণ নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা উপস্থিত সকল সহকর্মীর বক্তৃতায় বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়েছে। বদলিজনিত কারণে এই কর্মস্থল থেকে নতুন কর্মক্ষেত্রের দিকে যাত্রার প্রাক্কালে তাঁর এই বিদায়লগ্নে সমগ্র হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে এক নিস্তব্ধ ও আবেগঘন পরিবেশের অবতারণা হয়েছিল। সহকর্মীরা যখন তাঁর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন সফল অভিযানের স্মৃতিচারণ করছিলেন, তখন উপস্থিত অনেকের চোখেই কর্মজীবনের গভীর ভালোবাসার অশ্রু ঝরে পড়তে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে প্রায় ৫ হাজার পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

অনুষ্ঠানের মূল পর্বে হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং মাঠপর্যায়ের সহকর্মীরা একে একে মঞ্চে এসে বিদায়ী কর্মকর্তার অসামান্য পেশাদারিত্ব, অসাধারণ কর্মদক্ষতা এবং অনন্য মানবিক গুণাবলীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তারা বলেন যে জনাব মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান কেবল একজন দক্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং তিনি অধীনস্থ কর্মীদের অভিভাবক হিসেবে সব সময় পাশে থেকেছেন। নানা ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা এবং অধস্তনদের কাজের প্রতি উৎসাহ জোগানোর গুণ তাঁকে সবার নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর এই অসামান্য কর্মজীবন কেবল হাইওয়ে পুলিশকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং পুরো পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সহকর্মীরা অভিমত প্রকাশ করেন। বক্তারা সকলে একবাক্যে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধির একান্ত ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

সহকর্মীদের এই ভালোবাসা ও আন্তরিক মূল্যায়নের উত্তর দেওয়ার সময় বিদায়ী অতিথি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অত্যন্ত বিনম্র ভাষায় সবার প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে হাইওয়ে পুলিশের সকল স্তরের সদস্য, কর্মকর্তা এবং প্রধান কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের প্রতি ধন্যবাদ জানান, যারা তাঁর কর্মকালীন সময়ে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং নিখুঁত টিমওয়ার্কের ফলেই তিনি তাঁর দায়িত্বগুলো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সহকর্মীদের এই ভালোবাসা ও স্মৃতি তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হয়ে থাকবে বলে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে উপস্থিত সকলকে জানান। তাঁর এই প্রীতিপূর্ণ বক্তব্য অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সকল মানুষের মন জয় করে নেয় এবং একটি অত্যন্ত চমৎকার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্যায়ে বিদায়ী অতিথিকে সম্মান জানানোর জন্য হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সম্মাননা স্মারক এবং শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়ার বিশেষ পর্ব পরিচালনা করা হয়। হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অ্যাডিশনাল আইজি জনাব ফারুক আহমেদ মহোদয় নিজে অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে বিদায়ী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানের হাতে সম্মাননা স্মারকটি তুলে দেন। এই শুভেচ্ছা স্মারক প্রদানের মুহূর্তটিতে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা করতালির মাধ্যমে বিদায়ী অতিথিকে সম্মান জানান এবং ফটোসেশনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দি করা হয়। পরবর্তীতে একটি সংক্ষিপ্ত আপ্যায়ন ও ঘরোয়া আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়, যার মধ্য দিয়ে একটি সফল কর্মঅধ্যায়ের ইতি ঘটে।

পরিশেষে বলা যায় যে, হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এসপি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পুলিশি সংস্কৃতির এক সুমহান ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এই ধরনের অনুষ্ঠান কেবল বিদায়ী কর্মকর্তার কাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই করে না, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পুলিশ সদস্যদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করে। আমরা আশা করি আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য এভাবেই সততা, নিষ্ঠা এবং মানবিকতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে দেশের সেবা অব্যাহত রাখবেন। বিদায়ী কর্মকর্তার কর্মময় জীবনের আগামী দিনগুলো আরও বেশি সাফল্যমণ্ডিত হোক এবং দেশবাসীর নিরাপত্তায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুক—এটাই সকলের আন্তরিক প্রত্যাশা।

প্রতিবেদনের সূত্র: হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রেস উইং।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন