প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)-এর সঙ্গে দেশের অন্যতম উদীয়মান কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লুমিনাস মিরাকেল এগ্রো লিমিটেড-এর এক যৌথ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব দেশের সার্বিক কৃষিখাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকায়নের পথে নিয়ে যেতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্য মতে, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কেবল একটি গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতার রূপরেখা নয়; বরং এটি গবেষণাগারের উদ্ভাবনী জ্ঞানকে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহারের এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিয়ার অর্জিত প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে টেকসই কৃষিব্যবস্থার বিকাশ ঘটানোই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। যৌথ গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা সরাসরি সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লুমিনাস মিরাকেল এগ্রো লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সমঝোতা স্মারক তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক যাত্রা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সম্মানজনক অর্জন। এই যুগান্তকারী উদ্যোগ তাদের প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মী, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার, অংশীদার এবং শুভানুধ্যায়ীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সারাদেশের মাঠপর্যায়ের কৃষকদের জন্য ফলপ্রসূ ফলাফল বয়ে আনবে। উচ্চশিক্ষায় উদ্ভাবিত নানা প্রযুক্তির বাস্তবিক ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে যৌথ গবেষণা দলগুলো সরাসরি মাঠে কাজ করবে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান কর্তৃক আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কৃষিখাতে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগোপযোগী প্রযুক্তির ছোঁয়া নিশ্চিত করতে অ্যাকাডেমিয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের এই মেলবন্ধন অত্যন্ত জরুরি ছিল। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার ও গবেষকদের মেধা এবং লুমিনাস মিরাকেল এগ্রোর শক্তিশালী বিপণন অবকাঠামো ও প্রয়োগভিত্তিক উদ্যোগ একত্রে সমন্বিত হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে তা দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আগামী দিনগুলোতে যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন উদ্ভাবনী পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করা হবে। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের সার্বিক কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সূত্র: যবিপ্রবি জনসংযোগ দপ্তর ও লুমিনাস মিরাকেল এগ্রো প্রেস তথ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।