ঠাকুরগাঁও রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুস কাণ্ড: ভাতের টেবিলেও অর্থ আদায়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

ঠাকুরগাঁও রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুস কাণ্ড: ভাতের টেবিলেও অর্থ আদায়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দেশের জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোতে জমির নিবন্ধন সম্পন্ন করা, প্রয়োজনীয় নকল কপি সংগ্রহ কিংবা সরকারি রিকর্ড সংক্রান্ত যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক সেবা পেতে গিয়ে সাধারণ নাগরিকদের অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়—এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে এবার ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম অনৈতিক চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে, যা পুরো সরকারি সেবা খাতকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করার পরও অতিরিক্ত অবৈধ লেনদেন না করলে সেবাপ্রার্থীদের বছরের পর বছর ফাইলের পেছনে ছুটতে হয়। সম্প্রতি এক বিশেষ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় গোপন ক্যামেরার ফুটেজে এই ঘুষ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর ভিডিও চিত্র উঠে আসে।

আরও পড়ুন: যবিপ্রবি ও লুমিনাস মিরাকেল এগ্রোর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, কৃষি গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা

প্রকাশিত অনুসন্ধানী ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড কিপার পদে কর্মরত আঞ্জুমান আরা নিজের দাপ্তরিক কক্ষে বসে মধ্যাহ্নভোজ করার সময়েও প্রকাশ্যে ঘুষের অর্থ লেনদেন করছেন। ভাতের লোকমা মুখে তোলার ফাঁকেই তিনি সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ফাইলের কাজ দ্রুত শেষ করে দেওয়ার নামে বকশিসের দোহাই দিয়ে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করছেন। খাবারের টেবিলে বসেও অনায়াসে টাকা পকেটে পুরে নেওয়ার এমন চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি চেয়ারে বসে এমন বেপরোয়া আচরণকে সাধারণ মানুষ চরম অসততা ও ধৃষ্টতা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

ভুক্তভোগী স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই ধরনের কতিপয় অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণেই পুরো রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার চালান থাকা সত্ত্বেও বাড়তি টাকা না দিলে রেকর্ডপত্র প্রদান কিংবা দলিলে সই গ্রহণে মাসের পর মাস অহেতুক বিলম্ব ঘটানো হয়। অনেক সময় দালাল চক্র ও অফিসের কর্মচারীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করে এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে। দুর্নীতির এই বলয় না ভাঙলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কখনোই লাঘব হবে না বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে স্বামী থাকতেও তরুণীর ঘর ছাড়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরালে তোলপাড়

অভিযুক্ত কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের সেবাপ্রার্থী ও সাধারণ জনগণ তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি এবং বিভাগীয় শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল কারণ দর্শানোর নোটিশ বা সাময়িক বরখাস্তই যথেষ্ট নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক অ্যাকশন গ্রহণ করা প্রয়োজন যেন ভবিষ্যতে কোনো সরকারি কর্মচারী জনগণের সঙ্গে এমন হয়রানিমূলক আচরণ করার দুঃসাহস না দেখায়। একই সাথে জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সার্বিক দুর্নীতি দমনে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

সূত্র: অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন