প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার বহুমুখী ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশকে চরমভাবে অস্থিতিশীল করে তোলার একটি গভীর গোপন চক্রান্ত সফলভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। খুলনার শিল্পাঞ্চলখ্যাত খানজাহান আলী থানা এলাকার অন্তর্গত ফুলবাড়ীগেট রেললাইন সংলগ্ন সুনির্দিষ্ট একটি স্থানে সুচতুরতার সাথে পরিচালিত বিশেষ ঝটিকা অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একটি গোপন চক্রকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের ঠিক দুপুর ২:০০ ঘটিকার সময় স্থানীয় পারভীনের বাড়ির সুনির্দিষ্ট সামনের প্রাঙ্গণে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল দুষ্কৃতকারী চক্রটি। সাধারণ জনগণের মাঝে কৃত্রিম বিভ্রান্তি সৃষ্টি, জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অসৎ উদ্দেশ্যে অত্যন্ত চতুরতার সাথে কিছু লোক একত্রে সমবেত হয়ে সেখানে পরিকল্পিতভাবে খাবার বিতরণের আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল তারা।
আরও পড়ুন: গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে কায়রো সফরে হামাস প্রধান খলিল আল-হাইয়া
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যাদি অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট ওই দিন ও সময়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটির কর্মীরা জাতীয় শোক দিবস পুনর্ব্যক্ত বা পুনর্জাগরিত করার নানামুখী অপপ্রচারের আড়ালে মূলত রাষ্ট্র ও সমাজের ভেতর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বীজ বপন করার পরিকল্পনা করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের শান্তি ও শৃঙ্খলার ধারাকে ধ্বংস করার মানসে একটি পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা তৈরির সুদূরপ্রসারী নকশা এঁকেছিল এই চক্রটি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি এবং তৎপরতার কারণে তাদের সেই গোপন ষড়যন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে খানজাহান আলী থানা পুলিশের একটি চৌকস ও অভিজ্ঞ আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চারপাশ থেকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তাদের সমস্ত নাশকতামূলক অপচেষ্টা ও চক্রান্ত সফলভাবে রুখে দেয়।
আরও পড়ুন: সিলেটে নিজ বাসায় আওয়ামী লীগ কর্মীসহ ৩ জনকে গলা কেটে হত্যা
উক্ত সফল ও ঝটিকা অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হাতেনাতে আটককৃত কুচক্রী মহলের সদস্যরা হলেন— ফুলবাড়ীগেট এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন এলাকার মৃত নাসির সুন্সীর সহধর্মিণী পারভীন বেগম (৫০), রওসান আলীর পত্নী নীলা বেগম (৩২), এবং মোসাঃ বিলকিস বেগম (৪৩) যিনি সম্পর্কে মোঃ বাদশা মিয়ার স্ত্রী। এছাড়া উক্ত অভিযানে আটককৃত অপর সহযোগী হলেন একই এলাকার যোগীপোল ৪নং ওয়ার্ডের রেললাইনের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মৃত শাহ আলম হোসেনের সুযোগ্য পুত্র মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা এবং গোপনে সমবেত হওয়ার নেপথ্য ষড়যন্ত্রের নানাবিধ চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট উন্মোচিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আটককৃত এই চার অপরাধীর বিরুদ্ধে বর্তমান দেশের প্রচলিত আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী ও অপরাধমূলক বিশেষ ধারার বিধান অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে চলমান রয়েছে। থানা হাজতে তাদের রেখে মামলার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং তাদের সাথে অন্য কোনো বড় চক্র বা পলাতক কোনো মাস্টারমাইন্ড জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিবিড় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনজীবনের স্বস্তি বজায় রাখতে এ ধরনের ফ্যাসিস্ট অপশক্তি ও নাশকতার যেকোনো চক্রান্ত কঠোরহস্তে দমন করার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
সূত্র: খানজাহান আলী থানা পুলিশ ও খুলনা জেলা প্রেস নোট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।