প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
দেশব্যাপী ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনয়নের অংশ হিসেবে এক ঐতিহাসিক কর্মসূচির সূচনার মুখ উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উপাসনালয়সমূহের সম্মানিত ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অপরাপর ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবকদের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মানী ও সামাজিক ফ্যামিলি কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) অপরাহ্নে ঠিক ৪:০০ ঘটিকায় কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের ঐতিহাসিক পুরাতন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে তিনি সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের হাতে এই সম্মানী ভাতা ও কল্যাণমূলক ফ্যামিলি কার্ড সরাসরি তুলে দেবেন। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই সুসংগঠিত বিশাল জনসমাবেশের সার্বিক রূপরেখা ইতিপূর্বে প্রস্তুত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী স্থায়ী কমিটিতে চার নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি
কিশোরগঞ্জ জেলায় দিনব্যাপী বিস্তৃত এই বিশেষ সরকারি সফরের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঞ্চলটির পরিবেশগত উন্নয়ন ও মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করবেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার সকালেরভাগে তিনি উপজেলার পাকুন্দিয়া এলাকার প্রবহমান ঐতিহ্যবাহী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নির্দিষ্ট পয়েন্টে পোনা মাছ অবমুক্তকরণের শুভ সূচনা করবেন এবং স্থানীয় সাধারণ মৎস্যজীবীদের মাঝে রুই-জাতীয় পোনা বিতরণ করবেন। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী সংসংলগ্ন কটিয়াদী উপজেলার আধুনিক কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রজনন অবকাঠামো খতিয়ে দেখবেন। সফরের চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন ময়দানে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা সফল উদ্যোক্তাদের মাঝে জাতীয় পুরস্কার তুলে দেবেন।
আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে ৯৯৯-এ কলে পর্নোগ্রাফি চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪ তরুণী উদ্ধার
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের যৌথ তথ্যানুসারে, চলমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সমগ্র বাংলাদেশের মোট ৮৬ হাজার ৭০৯টি নথিভুক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকা প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন সম্মানিত ধর্মীয় প্রতিনিধিকে এই সুনির্দিষ্ট ভাতা ও ফ্যামিলি সহায়তার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ কল্যাণমূলক আর্থিক সুবিধা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের গির্জা। রাষ্ট্রীয় স্তরে ধর্মীয় সেবকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দেশের মৎস্যসম্পদের বৈপ্লবিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জোড়া লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী এলাকাভিত্তিক সফর তৃণমূল পর্যায়ে গভীর ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: জেলা প্রশাসন কিশোরগঞ্জ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।