প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পাবনা জেলার বেড়া উপজেলায় এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। যমুনা নদীর উত্তাল পানিতে নেমে অকাল নিখোঁজের শিকার হয়েছে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই কিশোর শিক্ষার্থী। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার ঐতিহাসিক আমিনপুর থানাধীন নটাখোলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। নিখোঁজ হওয়া ওই দুই কিশোর সম্পর্কে একে অপরের আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই। বেড়াতে এসে আনন্দঘন মুহূর্তে নদীতে নেমে এমন বিপত্তির মুখে পড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মাঝে।
আরও পড়ুন: কাহালুতে দিনদুপুরে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চুরি, থানায় লিখিত অভিযোগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া বিবরণ থেকে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনয় রায় (১৫) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ধলতোষা গ্রামের অধিবাসী অনুতোষ রায়ের সন্তান এবং অপর নিখোঁজ শিক্ষার্থী প্রভাত সরকার (১৫) গাজীপুর সদর উপজেলার মিটুলাল সরকারের সন্তান। তারা দুজনেই নিজ নিজ এলাকায় নবম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রমে অধ্যয়নরত ছিল। ছুটির অবসরে কিছুদিন আগে তারা দুজনই পাবনার আমিনপুর থানার খানপুরা মধ্যপাড়া এলাকায় বসবাসকারী তাদের নিকটাত্মীয় নিমাই করাতির বাসভবনে বেড়াতে এসেছিল।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে দুই ভাই সানন্দে বাড়ির পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত যমুনা নদীতে গোসল করার জন্য পানির সংস্পর্শে নামে। তবে বর্ষার আবহে যমুনা নদীতে চলমান তীব্র প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের অনুমান করতে না পারায় মুহূর্তের মধ্যেই গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে তারা। একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও নদীর পানির প্রাবল্যের কারণে শেষ পর্যন্ত দুইজনই অথৈ জলে হারিয়ে যায়। তাদের দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে আশপাশের লোকজন ও স্বজনেরা চিৎকার শুরু করেন।
আরও পড়ুন: তাড়াশে ৬০টি পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ, নিরাপদ পানির উদ্যোগ
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত নদীর চরে ও তলদেশে নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক খোঁজাখুঁজি পরিচালনা শুরু করেন। তবে নদীর পানি ও স্রোতের কারণে তাদের সন্ধান পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে অতি দ্রুত খবর পাঠানো হয় স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দলকে। খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের বিশেষ টিম ও উদ্ধারকারীরা। নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান কাজ জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যায়িত বার্তা নিশ্চিত করে কাজিরহাট নৌ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, সংবাদটি পাওয়ামাত্রই নৌ-পুলিশের আভিযানিক দল দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিখোঁজ কিশোরদ্বয়কে সুস্থ বা দ্রুততম সময়ে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ প্রশিক্ষিত ডুবুরি দলকে যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ সমন্বিতভাবে যমুনার নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিবিড়ভাবে যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।